Dhaka 12:54 am, Saturday, 15 August 2026
শিরোনাম:
১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে শতভাগ সমাধান সম্ভব নয় : মাহ্দী আমিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগ, গহীন পাহাড়ে আবারও বাজবে—‘স্কুলঘণ্টা’ বাংলাদেশকে বৈশ্বিক হালাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর চাকরি গেল বিপ্লব কুমার, গোলাম রুহানীসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার পুলিশের ৭ কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন ফ্যাসিবাদী সময়ের কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ জুলাই ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের অনুপস্থিতি, ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদ ও নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে সংবিধান সংশোধন, সবার মতামত নেবে বিশেষ কমিটি

ফ্যাসিবাদী সময়ের কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: মাহদী আমিন

সময় পোস্ট:সদ্য প্রকাশিত চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ বাড়ানোর যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।’ আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।  শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চিত্র তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমবারের মতো আমরা সারাদেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করেছি। কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতার শতভাগ নিরপেক্ষ ও নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, ফলাফল ঠিক সেভাবেই এসেছে। এরফলে ফলাফলের ভালো বা মন্দের দিকে না তাকিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এটিই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, তাদের ভেঙে পড়ার কিছু নেই। সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।’ বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর যা শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’ শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার ও নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যক্রম পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। এতে নতুন চারটি বই যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূল থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ক্রীড়া-সংস্কৃতির সন্নিবেশ এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির সঠিক সংমিশ্রণে (টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন) শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ চলমান রয়েছে।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। একই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো ফল করেছে, তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরে অনুপ্রেরণা দিন। আর যেসব জায়গায় ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাই মিলে সমন্বিতভাবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করি।’সূত্র : বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে শতভাগ সমাধান সম্ভব নয় : মাহ্দী আমিন

ফ্যাসিবাদী সময়ের কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: মাহদী আমিন

Update Time : 01:22:48 pm, Monday, 10 August 2026

সময় পোস্ট:সদ্য প্রকাশিত চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ বাড়ানোর যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।’ আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।  শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চিত্র তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমবারের মতো আমরা সারাদেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করেছি। কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতার শতভাগ নিরপেক্ষ ও নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, ফলাফল ঠিক সেভাবেই এসেছে। এরফলে ফলাফলের ভালো বা মন্দের দিকে না তাকিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এটিই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, তাদের ভেঙে পড়ার কিছু নেই। সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।’ বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর যা শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’ শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার ও নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যক্রম পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। এতে নতুন চারটি বই যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূল থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ক্রীড়া-সংস্কৃতির সন্নিবেশ এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির সঠিক সংমিশ্রণে (টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন) শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ চলমান রয়েছে।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। একই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভালো ফল করেছে, তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরে অনুপ্রেরণা দিন। আর যেসব জায়গায় ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাই মিলে সমন্বিতভাবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করি।’সূত্র : বাসস