Dhaka 9:09 pm, Friday, 14 August 2026
শিরোনাম:
১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে শতভাগ সমাধান সম্ভব নয় : মাহ্দী আমিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগ, গহীন পাহাড়ে আবারও বাজবে—‘স্কুলঘণ্টা’ বাংলাদেশকে বৈশ্বিক হালাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর চাকরি গেল বিপ্লব কুমার, গোলাম রুহানীসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার পুলিশের ৭ কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন ফ্যাসিবাদী সময়ের কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ জুলাই ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের অনুপস্থিতি, ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদ ও নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে সংবিধান সংশোধন, সবার মতামত নেবে বিশেষ কমিটি

ড. আলম মোস্তফার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ: সম্পাদককে তিরস্কার ও ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো: আলম মোস্তফার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় ‘দৈনিক সকালের সময়’-এর সম্পাদক নূর হাকিমকে তিরস্কার করেছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। একই সাথে অভিযোগকারীকে প্রতীকী ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক হাজার টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে এবং পরদিন ২ ডিসেম্বর প্রিন্ট সংস্করণে ‘ড. মো: আলম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে ড. মোস্তফা প্রেস কাউন্সিলে মামলা (নং-০৪/২০২৪) দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, সংবাদটি তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণœ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রেস কাউন্সিলের পর্যবেক্ষণবাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড

বিচারপতি মো: আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বাধীন জুডিশিয়াল কমিটি শুনানি শেষে দেখতে পায়, সংবাদটি প্রকাশের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যাচাই-বাছাইও করা হয়নি। কাউন্সিলের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে কয়েকটি গুরুতর অনিয়ম অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাজউক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সংবাদটি ছিল একতরফা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগকারী প্রতিবাদলিপি পাঠালেও তা যথাযথভাবে ও সময়মতো প্রকাশ করা হয়নি।

এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও ড. মোস্তফার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

রায়ের নির্দেশনা : প্রেস কাউন্সিল সম্পাদককে সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করে ১. সম্পাদক নূর হাকিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হয়। ২. ৭ দিনের মধ্যে অভিযোগকারীকে এক হাজার টাকা প্রতীকী ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। ৩. রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পত্রিকায় প্রকাশ করে তার কপি প্রেস কাউন্সিলে জমা দিতে হবে। ৪. অনলাইন পোর্টাল থেকে সংশ্লিষ্ট মানহানিকর সংবাদ ৩ দিনের মধ্যে অপসারণ করতে হবে। কাউন্সিল আরো সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সংবাদ পরিবেশনে অধিক দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত সততা নিশ্চিত করতে হবে।

লঙ্ঘিত নীতিমালা ও পেশাগত ব্যর্থতা

রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি ১৯৯৩’ লঙ্ঘিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো

তথ্য যাচাইয়ে ব্যর্থতা : সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি হলো সংবাদ প্রকাশের আগে নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাই করা। কিন্তু এখানে কোনো দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়নি, এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যও নেয়া হয়নি।

একতরফা ও বানোয়াট প্রতিবেদন : একটি পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা পেশাগত নীতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।

প্রতিবাদলিপি উপেক্ষা : ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের প্রতিবাদ দ্রুত ও গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার দায়িত্ব। কিন্তু সম্পাদক এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে শতভাগ সমাধান সম্ভব নয় : মাহ্দী আমিন

ড. আলম মোস্তফার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ: সম্পাদককে তিরস্কার ও ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ

Update Time : 04:50:47 pm, Friday, 10 April 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো: আলম মোস্তফার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় ‘দৈনিক সকালের সময়’-এর সম্পাদক নূর হাকিমকে তিরস্কার করেছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। একই সাথে অভিযোগকারীকে প্রতীকী ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক হাজার টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে এবং পরদিন ২ ডিসেম্বর প্রিন্ট সংস্করণে ‘ড. মো: আলম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে ড. মোস্তফা প্রেস কাউন্সিলে মামলা (নং-০৪/২০২৪) দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, সংবাদটি তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণœ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রেস কাউন্সিলের পর্যবেক্ষণবাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড

বিচারপতি মো: আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বাধীন জুডিশিয়াল কমিটি শুনানি শেষে দেখতে পায়, সংবাদটি প্রকাশের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যাচাই-বাছাইও করা হয়নি। কাউন্সিলের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে কয়েকটি গুরুতর অনিয়ম অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রাজউক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সংবাদটি ছিল একতরফা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগকারী প্রতিবাদলিপি পাঠালেও তা যথাযথভাবে ও সময়মতো প্রকাশ করা হয়নি।

এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও ড. মোস্তফার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

রায়ের নির্দেশনা : প্রেস কাউন্সিল সম্পাদককে সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্নোক্ত নির্দেশনা প্রদান করে ১. সম্পাদক নূর হাকিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হয়। ২. ৭ দিনের মধ্যে অভিযোগকারীকে এক হাজার টাকা প্রতীকী ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। ৩. রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পত্রিকায় প্রকাশ করে তার কপি প্রেস কাউন্সিলে জমা দিতে হবে। ৪. অনলাইন পোর্টাল থেকে সংশ্লিষ্ট মানহানিকর সংবাদ ৩ দিনের মধ্যে অপসারণ করতে হবে। কাউন্সিল আরো সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সংবাদ পরিবেশনে অধিক দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত সততা নিশ্চিত করতে হবে।

লঙ্ঘিত নীতিমালা ও পেশাগত ব্যর্থতা

রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘সাংবাদিকদের জন্য অনুসরণীয় আচরণবিধি ১৯৯৩’ লঙ্ঘিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো

তথ্য যাচাইয়ে ব্যর্থতা : সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি হলো সংবাদ প্রকাশের আগে নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাই করা। কিন্তু এখানে কোনো দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়নি, এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যও নেয়া হয়নি।

একতরফা ও বানোয়াট প্রতিবেদন : একটি পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা পেশাগত নীতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।

প্রতিবাদলিপি উপেক্ষা : ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের প্রতিবাদ দ্রুত ও গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার দায়িত্ব। কিন্তু সম্পাদক এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন।