Dhaka 11:36 am, Sunday, 30 August 2026
শিরোনাম:
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী অপরাধ দমনে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুম-খুন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে: কাদের গনি চৌধুরী নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আসছে, সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ শুরু হচ্ছে অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই : এলজিআরডি মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ১৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা সমুন্নত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

অপরাধ দমনে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সময় পোস্ট : সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দ্বিতীয় কোয়ার্টারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন, পুলিশের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কর্মকর্তা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট:

সারা দেশে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের সহায়তায় ইউনিটটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্রের তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য পুরস্কারের পরিমাণও পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য বা সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেলসহ অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

বাতিল অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েও সতর্কতা:

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল করা অস্ত্রের লাইসেন্স জমা না দিলে সেগুলো অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য ও সহযোগিতা নেওয়া হবে। এর আগে গত ২৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজদের ধরতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে গুরুত্ব:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক অপরাধ শনাক্তকরণ পদ্ধতির ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপাররা অংশ নেন। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পুলিশের সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

অপরাধ দমনে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 01:18:50 pm, Saturday, 29 August 2026

সময় পোস্ট : সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দ্বিতীয় কোয়ার্টারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন, পুলিশের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কর্মকর্তা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট:

সারা দেশে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের সহায়তায় ইউনিটটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্রের তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য পুরস্কারের পরিমাণও পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য বা সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেলসহ অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

বাতিল অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েও সতর্কতা:

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল করা অস্ত্রের লাইসেন্স জমা না দিলে সেগুলো অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য ও সহযোগিতা নেওয়া হবে। এর আগে গত ২৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজদের ধরতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে গুরুত্ব:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক অপরাধ শনাক্তকরণ পদ্ধতির ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপাররা অংশ নেন। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পুলিশের সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।