Dhaka 11:14 am, Monday, 24 August 2026
শিরোনাম:
সিলেট বালাগঞ্জ বিএনপি’র সভাপতি গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ, ক্ষুন্ন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড পরিকল্পনা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বঙ্গভবনে বিদায়ী সংবর্ধনা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা রোগ প্রতিরোধই সরকারের মূল লক্ষ্য : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট আজ হামে মারা যাওয়া ৮২ শতাংশ শিশুই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ৫ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

গুলশানের বাড়ি সরকারের সম্পত্তি, সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসে হস্তান্তরের নির্দেশ

সময় পোস্ট:রাজধানীর অভিজাত গুলশান-২ এলাকার একটি বাড়ি সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের দাবি:

রায়ে আদালত বলেন, গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িটি স্বাধীনতার পর থেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ছিল। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এর মালিকানা পরিবর্তন করা হয়নি, ফলে এটি এখনও সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।
দখল ও মালিকানা নিয়ে বিতর্ক:

দীর্ঘদিন ধরে আবদুস সালাম মুর্শেদী বাড়িটি ব্যবহার করে আসছেন বলে জানা যায়। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময় মালিকানা হস্তান্তরের চেষ্টা হলেও তা আইনগতভাবে বৈধ হয়নি। আদালত আরও উল্লেখ করেন, পরিত্যক্ত সম্পত্তি অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তন করা যায় না।
দুদকের অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন:

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে একটি রিটের পর আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালায়। প্রতিবেদনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করে।
তিন মাসের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ:

রায়ে সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দখল বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সচিবকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপিলের প্রস্তুতি:

অন্যদিকে সালাম মুর্শেদীর আইনজীবীরা জানান, তিনি ১৯৯৭ সালে বৈধভাবে সম্পত্তিটি ক্রয় করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ রায়ের ফলে গুলশানের বহুল আলোচিত এই বাড়ি ঘিরে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট বালাগঞ্জ বিএনপি’র সভাপতি গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ, ক্ষুন্ন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড পরিকল্পনা

গুলশানের বাড়ি সরকারের সম্পত্তি, সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসে হস্তান্তরের নির্দেশ

Update Time : 11:57:17 am, Monday, 22 June 2026

সময় পোস্ট:রাজধানীর অভিজাত গুলশান-২ এলাকার একটি বাড়ি সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের দাবি:

রায়ে আদালত বলেন, গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িটি স্বাধীনতার পর থেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ছিল। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এর মালিকানা পরিবর্তন করা হয়নি, ফলে এটি এখনও সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।
দখল ও মালিকানা নিয়ে বিতর্ক:

দীর্ঘদিন ধরে আবদুস সালাম মুর্শেদী বাড়িটি ব্যবহার করে আসছেন বলে জানা যায়। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময় মালিকানা হস্তান্তরের চেষ্টা হলেও তা আইনগতভাবে বৈধ হয়নি। আদালত আরও উল্লেখ করেন, পরিত্যক্ত সম্পত্তি অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তন করা যায় না।
দুদকের অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন:

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে একটি রিটের পর আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালায়। প্রতিবেদনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করে।
তিন মাসের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ:

রায়ে সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দখল বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সচিবকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপিলের প্রস্তুতি:

অন্যদিকে সালাম মুর্শেদীর আইনজীবীরা জানান, তিনি ১৯৯৭ সালে বৈধভাবে সম্পত্তিটি ক্রয় করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ রায়ের ফলে গুলশানের বহুল আলোচিত এই বাড়ি ঘিরে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।