Dhaka 11:51 pm, Thursday, 5 November 2026
শিরোনাম:
২০২৪ সালের মতোই ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেবে জনগণ’: প্রধানমন্ত্রী মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন, আরও ৪টির সিদ্ধান্ত স্থগিত শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভূমিকম্প মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির এক-দুই বিষয়ে ফেল করা এইচএসসি শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার পরিকল্পনা সরকারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ বিশ্বের শ্রমবাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি ও ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির

২০২৪ সালের মতোই ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেবে জনগণ’: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের উচিত জবাব দেবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এসব পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপচেষ্টা রুখতে শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, যারা গত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশ থেকে অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মিল-কারখানা জনগণের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকেরা। তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ‘এই মিল-কারখানাগুলো যদি ধ্বংস হয়ে যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমার শ্রমিক ভাই ও বোনেরা। ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাঁদের সন্তানেরা। তাঁদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। সেগুলো বিবেচনা ও সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে শ্রমিকেরা আগের চেয়ে ভালো থাকতে পারেন। তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে দিনরাত কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দেশে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার। খুলনার শিল্পাঞ্চলের অতীত ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

২০২৪ সালের মতোই ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেবে জনগণ’: প্রধানমন্ত্রী

২০২৪ সালের মতোই ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেবে জনগণ’: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : 02:24:06 pm, Thursday, 5 November 2026

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের উচিত জবাব দেবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা এসব পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপচেষ্টা রুখতে শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, যারা গত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশ থেকে অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মিল-কারখানা জনগণের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকেরা। তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ‘এই মিল-কারখানাগুলো যদি ধ্বংস হয়ে যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমার শ্রমিক ভাই ও বোনেরা। ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাঁদের সন্তানেরা। তাঁদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। সেগুলো বিবেচনা ও সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে শ্রমিকেরা আগের চেয়ে ভালো থাকতে পারেন। তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে দিনরাত কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দেশে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায় সরকার। খুলনার শিল্পাঞ্চলের অতীত ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।