Dhaka 10:49 am, Friday, 16 October 2026
শিরোনাম:
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের আগামীকাল শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, পাঁচ দিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক অপরাধ দমনে কঠোর সরকার, ক্লিন হার্টের মতো অভিযান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের কৌশলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের আস্থা: ড. তিতুমীর জবাবদিহিতা ও সুশাসনে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: ডেপুটি স্পিকার নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা, আওয়ামী লীগের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: তথ্য উপদেষ্টা

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

সময় পোস্ট: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির এক কর্মকর্তার করা অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন, বদলি-পদায়নে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এলজিইডিতে যোগদান করা বেলাল হোসেন বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশে প্রায় ৪০টি কাজ সম্পন্ন না করেই শতভাগ বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়া রাস্তাগুলোর জন্য পুনরায় বরাদ্দ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সময়ের অনেক ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ এখনো অসম্পন্ন রয়েছে।

নিয়োগ ও পদায়নে ঘুষের অভিযোগ:

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে রাজনৈতিক সুপারিশে প্রায় ১ হাজার ১২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে এলজিইডিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য পদ অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া সার্ভেয়ারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব, ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কার্যসহকারীদেরও উপসহকারী প্রকৌশলীর বিভিন্ন দায়িত্বে পদায়ন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ৪১২ জনকে এভাবে পদায়ন করে ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বদলি বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান:

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলাল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলজিইডির মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করে। তাঁর সময়ে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের যেসব অভিযোগ ওঠে, সেগুলোর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একসঙ্গে তিন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্ল্যাট, জমি ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদের অভিযোগ:

অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বেলাল হোসেন রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে ৫ কাঠার প্লট, রংপুরের ধাপ এলাকায় ৬ কাঠা জমির ওপর দুই ইউনিটের পাঁচতলা বাড়ি, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে প্রায় ২১০ বিঘা কৃষিজমি এবং মিরপুর-২ এলাকায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি:

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বেলাল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলালের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

Update Time : 12:07:52 pm, Monday, 22 June 2026

সময় পোস্ট: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির এক কর্মকর্তার করা অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন, বদলি-পদায়নে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এলজিইডিতে যোগদান করা বেলাল হোসেন বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশে প্রায় ৪০টি কাজ সম্পন্ন না করেই শতভাগ বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়া রাস্তাগুলোর জন্য পুনরায় বরাদ্দ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সময়ের অনেক ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ এখনো অসম্পন্ন রয়েছে।

নিয়োগ ও পদায়নে ঘুষের অভিযোগ:

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে রাজনৈতিক সুপারিশে প্রায় ১ হাজার ১২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে এলজিইডিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য পদ অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া সার্ভেয়ারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব, ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কার্যসহকারীদেরও উপসহকারী প্রকৌশলীর বিভিন্ন দায়িত্বে পদায়ন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ৪১২ জনকে এভাবে পদায়ন করে ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বদলি বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান:

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বেলাল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলজিইডির মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করে। তাঁর সময়ে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের যেসব অভিযোগ ওঠে, সেগুলোর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একসঙ্গে তিন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্ল্যাট, জমি ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদের অভিযোগ:

অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বেলাল হোসেন রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে ৫ কাঠার প্লট, রংপুরের ধাপ এলাকায় ৬ কাঠা জমির ওপর দুই ইউনিটের পাঁচতলা বাড়ি, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে প্রায় ২১০ বিঘা কৃষিজমি এবং মিরপুর-২ এলাকায় ১ হাজার ৫০০ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি:

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বেলাল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।