Dhaka 4:38 am, Tuesday, 20 October 2026
শিরোনাম:
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনে বিরোধীদের অসহযোগিতার অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: রিজভী জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর বাংলাদেশের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: রাষ্ট্রপতি খাল খননের মাটি দিয়ে ইট তৈরির পরিকল্পনা, টপসয়েল রক্ষায় উদ্যোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দলের পাকিস্তান সফর

শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে আগারগাঁওয়ে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সাল থেকে নতুন কমপ্লেক্সে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর নতুন কমপ্লেক্সের ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নির্মিতব্য কমপ্লেক্সে তিনটি বেজমেন্টসহ মোট ১৪টি ১২ তলা ভবন থাকবে। এসব ভবনে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। পার্কিং ব্যবস্থায় ভূ-উপরিস্থ ২০০টি স্থানসহ মোট প্রায় ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে সরকারি দপ্তরগুলোর পাশাপাশি মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বহুমুখী হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখা হবে। তুলনায়, বর্তমানে সচিবালয় প্রায় ১৭ একর জমির ওপর অবস্থিত।

নতুন সচিবালয় নির্মাণের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য নতুন কর্মপরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজের সময়সূচি, প্রকল্পের ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। মন্ত্রিসভার একই বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নাম সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। সভায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে বলে জানানো হয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে। সচিবালয় স্থানান্তর, মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তগুলো মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি

শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

Update Time : 12:36:11 pm, Monday, 19 October 2026

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে আগারগাঁওয়ে প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সাল থেকে নতুন কমপ্লেক্সে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। লুই আই কানের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর নতুন কমপ্লেক্সের ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নির্মিতব্য কমপ্লেক্সে তিনটি বেজমেন্টসহ মোট ১৪টি ১২ তলা ভবন থাকবে। এসব ভবনে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকবে। পার্কিং ব্যবস্থায় ভূ-উপরিস্থ ২০০টি স্থানসহ মোট প্রায় ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে সরকারি দপ্তরগুলোর পাশাপাশি মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বহুমুখী হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখা হবে। তুলনায়, বর্তমানে সচিবালয় প্রায় ১৭ একর জমির ওপর অবস্থিত।

নতুন সচিবালয় নির্মাণের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য নতুন কর্মপরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজের সময়সূচি, প্রকল্পের ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। মন্ত্রিসভার একই বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নাম সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। সভায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে বলে জানানো হয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে। সচিবালয় স্থানান্তর, মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তগুলো মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।