Dhaka 9:55 am, Friday, 16 October 2026
শিরোনাম:
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের আগামীকাল শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, পাঁচ দিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক অপরাধ দমনে কঠোর সরকার, ক্লিন হার্টের মতো অভিযান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের কৌশলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের আস্থা: ড. তিতুমীর জবাবদিহিতা ও সুশাসনে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: ডেপুটি স্পিকার নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা, আওয়ামী লীগের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: তথ্য উপদেষ্টা

সচিবালয়ে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বিএসআরএফ বিলুপ্তির দাবিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভেতরে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) বিলুপ্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য।

গতকাল সোমবার (২৩ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য- এর সংগঠক মো. ইমতিয়াজ হোসেন।

বক্তারা বলেন, “বিএসআরএফ সচিবালয়ের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে তদবির বাণিজ্য ও ফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা ফসিহ উদ্দীন মাহতাব, মাসুদুল হক ও উবায়দুল্লাহ বাদলের মতো সাংবাদিকরা শেখ হাসিনার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সচিবালয়ে মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।”

তাদের অভিযোগ, “ফ্যাসিবাদের দোসর এই চক্রটি এখনও আওয়ামী আমলাদের স্বপদে রাখার জন্য সক্রিয়ভাবে তদবির চালিয়ে আসছে। তারা সাংবাদিকতার নাম করে সচিবালয়ে ‘দালালচক্র’ হিসেবে পরিচিত।”

‘বাদল এখন ডিগবাজির প্রতীক’
বক্তারা আরও বলেন, “বিএসআরএফ-এর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী পন্থী সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে সিরিজ রিপোর্ট করেছেন, একদিকে আওয়ামী দালাল, অন্যদিকে বিএনপির মুখোশ—এই দুই চরিত্রে নিজেকে সাজিয়ে সচিবালয়ে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাচ্ছেন।”

‘মাসউদুল হক শত কোটি টাকার মালিক’
আয়োজকরা বলেন, “সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মাসউদুল হক ফ্যাসিবাদের ক্ষমতার সময়ে বহুমুখী সুবিধা আদায় করেছেন। আমলাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা করেছেন, আর বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাংবাদিকদের হেনস্তা করেছেন। তিনি এখন হাজার কোটি টাকার মালিক, স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেই এই অবস্থান তৈরি করেছেন।”

‘হাসিনা পালালেও দোসররা বহাল’

মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, “যেখানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন, সেখানে তার দোসররা আজও কীভাবে প্রেসক্লাবের মতো জায়গায় নির্বাচনে অংশ নিতে সাহস পায়?” তারা বলেন, সচিবালয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় তাদের উপস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, ফ্যাসিবাদ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের জন্য হুমকি।”

‘আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত টেনে হুঁশিয়ারি’

ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের নেতারা বলেন, “সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতনের সময় যেমন সহযোগীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে, ইরানেও মোসাদের এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে সফল জুলাই বিপ্লবের পরও কেন ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার হচ্ছে না? আমরা এর জবাব চাই।”

তারা হুঁশিয়ারি দেন, “বিএসআরএফ যদি বিলুপ্ত করা না হয় এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সচিবালয়ে নিষিদ্ধ না করা হয়, তাহলে আমরা দুর্বার আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
উক্ত মানব বন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মাসুম খন্দকার, ইকবাল মাহমুদ, সিরাজুল ইসলাম, কপিল উদ্দিন, রাব্বী, সজলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যেরের নেতাকর্মীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বিএসআরএফ বিলুপ্তির দাবিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের মানববন্ধন

Update Time : 08:22:55 am, Tuesday, 24 June 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভেতরে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) বিলুপ্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য।

গতকাল সোমবার (২৩ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য- এর সংগঠক মো. ইমতিয়াজ হোসেন।

বক্তারা বলেন, “বিএসআরএফ সচিবালয়ের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে তদবির বাণিজ্য ও ফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা ফসিহ উদ্দীন মাহতাব, মাসুদুল হক ও উবায়দুল্লাহ বাদলের মতো সাংবাদিকরা শেখ হাসিনার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সচিবালয়ে মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।”

তাদের অভিযোগ, “ফ্যাসিবাদের দোসর এই চক্রটি এখনও আওয়ামী আমলাদের স্বপদে রাখার জন্য সক্রিয়ভাবে তদবির চালিয়ে আসছে। তারা সাংবাদিকতার নাম করে সচিবালয়ে ‘দালালচক্র’ হিসেবে পরিচিত।”

‘বাদল এখন ডিগবাজির প্রতীক’
বক্তারা আরও বলেন, “বিএসআরএফ-এর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী পন্থী সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে সিরিজ রিপোর্ট করেছেন, একদিকে আওয়ামী দালাল, অন্যদিকে বিএনপির মুখোশ—এই দুই চরিত্রে নিজেকে সাজিয়ে সচিবালয়ে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাচ্ছেন।”

‘মাসউদুল হক শত কোটি টাকার মালিক’
আয়োজকরা বলেন, “সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মাসউদুল হক ফ্যাসিবাদের ক্ষমতার সময়ে বহুমুখী সুবিধা আদায় করেছেন। আমলাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা করেছেন, আর বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাংবাদিকদের হেনস্তা করেছেন। তিনি এখন হাজার কোটি টাকার মালিক, স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেই এই অবস্থান তৈরি করেছেন।”

‘হাসিনা পালালেও দোসররা বহাল’

মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, “যেখানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন, সেখানে তার দোসররা আজও কীভাবে প্রেসক্লাবের মতো জায়গায় নির্বাচনে অংশ নিতে সাহস পায়?” তারা বলেন, সচিবালয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় তাদের উপস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, ফ্যাসিবাদ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের জন্য হুমকি।”

‘আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত টেনে হুঁশিয়ারি’

ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের নেতারা বলেন, “সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতনের সময় যেমন সহযোগীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে, ইরানেও মোসাদের এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে সফল জুলাই বিপ্লবের পরও কেন ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার হচ্ছে না? আমরা এর জবাব চাই।”

তারা হুঁশিয়ারি দেন, “বিএসআরএফ যদি বিলুপ্ত করা না হয় এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সচিবালয়ে নিষিদ্ধ না করা হয়, তাহলে আমরা দুর্বার আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
উক্ত মানব বন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মাসুম খন্দকার, ইকবাল মাহমুদ, সিরাজুল ইসলাম, কপিল উদ্দিন, রাব্বী, সজলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যেরের নেতাকর্মীরা।