Dhaka 5:12 am, Friday, 2 October 2026
শিরোনাম:
ঢাকায় ‘ক্যানবেরা ইউনিভার্সিটি’ ক্যাম্পাস চালুর আহ্বান,অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির ফেনী-পরশুরামে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আনসার-ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর, নতুন উদ্দীপনায় কাজের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলা কিউআর’ লেনদেন সম্পূর্ণ ফ্রি, লাগবে না কোনো চার্জ: অর্থমন্ত্রী ভিন্নমতের প্রতি সম্মানই গণতন্ত্রের আসল শক্তি’: মাহদী আমিন বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনে প্রোসার্চ শিক্ষার্থীদের মাঙ্গা বই উপহার প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের স্বার্থ ও বৈশ্বিক সম্ভাবনার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে: মাহদী আমিন বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা ও তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না: প্রধানমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পথে বাংলাদেশ: ড. তিতুমীর

বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনে প্রোসার্চ শিক্ষার্থীদের মাঙ্গা বই উপহার

সময় পোস্ট:

বাংলাদেশে মাঙ্গা সংস্কৃতির প্রসার এবং জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া তরুণ শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক শিক্ষায় সহায়তার লক্ষ্যে প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টারে স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বই উপহার দিয়েছে ফোরনেটশা বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগ ‘সোর্স বাংলাদেশ’।n সম্প্রতি আয়োজিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার পাশাপাশি দেশীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বইয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জাপানি সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। ফোরনেটশা বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালিত ‘সোর্স বাংলাদেশ’ স্থানীয় মাঙ্গা প্রকাশনা ও ক্রিয়েটর-ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জাপানে মুদ্রিত মাঙ্গা বই উৎপাদনের বড় একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত জাপানি কোম্পানি গ্রুপ ফোরনেটশা গ্রুপের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে গল্প, প্রকাশনা, শিক্ষা এবং তরুণদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরির উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।

প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টার জাপানে পড়াশোনা, কাজ ও বসবাসের প্রস্তুতি নেওয়া তরুণদের জাপানি ভাষা শেখানোর পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতি, জীবনধারা, আচরণবিধি এবং সেখানে বসবাসের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৭০ জনকে জাপানে যেতে সহায়তা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ৬৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী সেখানে জাপানি ভাষার পাশাপাশি জাপানি সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে শিখছেন। চলতি বছরে ১২০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টারের। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে জাপানে পাঠানোর প্রত্যাশা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ অবস্থায় মাঙ্গা বই উপহারের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ভাষাশিক্ষার বাইরে জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি অতিরিক্ত মাধ্যম হিসেবে দেখছে আয়োজকরা।

মাঙ্গা জাপানের বহুল পরিচিত সাংস্কৃতিক প্রকাশমাধ্যমগুলোর একটি। ছবি, সংলাপ ও গল্পের সমন্বয়ে তৈরি এ ধরনের ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং বিশ্বজুড়ে পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়। তবে এবারের উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা। ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে জাপানি মাঙ্গার পরিচিত ফরম্যাট সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের স্থানীয় নির্মাতারা কীভাবে মাঙ্গা-অনুপ্রাণিত ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে গল্প তুলে ধরছেন, সেটিও দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আয়োজকদের মতে, উদ্যোগটি শুধু বই উপহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে জাপানি সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং বাংলাদেশের স্থানীয় সৃজনশীলতার মধ্যে একটি যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফোরনেটশা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোনোসুকে তাকাহাশি বলেন, জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীরা শুধু ভাষা শিখছেন না; তারা দেশটিতে বসবাস, কাজ এবং জাপানি সমাজের অংশ হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তিনি বলেন, মাঙ্গা শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানি সংস্কৃতির কাছাকাছি যাওয়ার একটি স্বাভাবিক ও উপভোগ্য মাধ্যম হতে পারে। স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাঙ্গা মাধ্যমটিকে আরও সহজভাবে বুঝতে পারবেন এবং জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি সৃজনশীল মাধ্যমের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। কোনোসুকে তাকাহাশি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ও জাপানের সংস্কৃতির মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়ক হবে।

প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ দেবনাথ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা জাপানে বসবাস ও কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের বিভিন্ন ধরনের সংযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মাঙ্গা জাপানে পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি সাংস্কৃতিক মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের হাতে মাঙ্গা বই তুলে দেওয়ার ফলে তারা জাপানি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং স্বাভাবিকভাবে কথোপকথন শুরু করার ক্ষেত্রে একটি পরিচিত বিষয়কে কাজে লাগাতে পারবেন। তার মতে, ভাষা শেখার পাশাপাশি একটি দেশের সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে ধারণা থাকলে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য তা সহায়ক হতে পারে। অনুষ্ঠানে প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের হাতে স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বই তুলে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বইগুলো পড়েন এবং গল্প বলার ভিন্নধর্মী পদ্ধতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। এ সময় তারা বাংলাদেশে তৈরি মাঙ্গা পড়ার ও দেখার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন। জাপানি ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের প্রভাব কীভাবে বাংলাদেশের স্থানীয় সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করছে, সেটিও শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা, গল্প বলার নতুন মাধ্যম সম্পর্কে ধারণা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরিতে আগ্রহী করে তুলতে পারে।

ফোরনেটশা বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশে পড়াশোনা, কাজ কিংবা বসবাসের প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য ভাষাজ্ঞানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বোঝাপড়াও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় মাঙ্গা ও সৃজনশীল প্রতিভাকে পরিচিত করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। মাঙ্গা বই উপহারের এ কার্যক্রমকে সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি অংশ হিসেবে দেখছে আয়োজকরা। তাদের মতে, শিক্ষা, তরুণদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সঙ্গে মাঙ্গা সংস্কৃতিকে যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশে এ শিল্প ও সৃজনশীল মাধ্যমের বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বইয়ের মাধ্যমে জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাপানের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আরও বেশি সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

ঢাকায় ‘ক্যানবেরা ইউনিভার্সিটি’ ক্যাম্পাস চালুর আহ্বান,অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনে প্রোসার্চ শিক্ষার্থীদের মাঙ্গা বই উপহার

Update Time : 10:05:08 am, Thursday, 1 October 2026

সময় পোস্ট:

বাংলাদেশে মাঙ্গা সংস্কৃতির প্রসার এবং জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া তরুণ শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক শিক্ষায় সহায়তার লক্ষ্যে প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টারে স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বই উপহার দিয়েছে ফোরনেটশা বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগ ‘সোর্স বাংলাদেশ’।n সম্প্রতি আয়োজিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার পাশাপাশি দেশীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বইয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জাপানি সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। ফোরনেটশা বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালিত ‘সোর্স বাংলাদেশ’ স্থানীয় মাঙ্গা প্রকাশনা ও ক্রিয়েটর-ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জাপানে মুদ্রিত মাঙ্গা বই উৎপাদনের বড় একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত জাপানি কোম্পানি গ্রুপ ফোরনেটশা গ্রুপের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে গল্প, প্রকাশনা, শিক্ষা এবং তরুণদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরির উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।

প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টার জাপানে পড়াশোনা, কাজ ও বসবাসের প্রস্তুতি নেওয়া তরুণদের জাপানি ভাষা শেখানোর পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতি, জীবনধারা, আচরণবিধি এবং সেখানে বসবাসের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৭০ জনকে জাপানে যেতে সহায়তা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ৬৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী সেখানে জাপানি ভাষার পাশাপাশি জাপানি সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে শিখছেন। চলতি বছরে ১২০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টারের। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে জাপানে পাঠানোর প্রত্যাশা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ অবস্থায় মাঙ্গা বই উপহারের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ভাষাশিক্ষার বাইরে জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি অতিরিক্ত মাধ্যম হিসেবে দেখছে আয়োজকরা।

মাঙ্গা জাপানের বহুল পরিচিত সাংস্কৃতিক প্রকাশমাধ্যমগুলোর একটি। ছবি, সংলাপ ও গল্পের সমন্বয়ে তৈরি এ ধরনের ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং বিশ্বজুড়ে পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়। তবে এবারের উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা। ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে জাপানি মাঙ্গার পরিচিত ফরম্যাট সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের স্থানীয় নির্মাতারা কীভাবে মাঙ্গা-অনুপ্রাণিত ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে গল্প তুলে ধরছেন, সেটিও দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আয়োজকদের মতে, উদ্যোগটি শুধু বই উপহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে জাপানি সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং বাংলাদেশের স্থানীয় সৃজনশীলতার মধ্যে একটি যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফোরনেটশা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোনোসুকে তাকাহাশি বলেন, জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীরা শুধু ভাষা শিখছেন না; তারা দেশটিতে বসবাস, কাজ এবং জাপানি সমাজের অংশ হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তিনি বলেন, মাঙ্গা শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানি সংস্কৃতির কাছাকাছি যাওয়ার একটি স্বাভাবিক ও উপভোগ্য মাধ্যম হতে পারে। স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মাঙ্গা মাধ্যমটিকে আরও সহজভাবে বুঝতে পারবেন এবং জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি সৃজনশীল মাধ্যমের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। কোনোসুকে তাকাহাশি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ও জাপানের সংস্কৃতির মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়ক হবে।

প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ দেবনাথ বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা জাপানে বসবাস ও কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের বিভিন্ন ধরনের সংযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মাঙ্গা জাপানে পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি সাংস্কৃতিক মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের হাতে মাঙ্গা বই তুলে দেওয়ার ফলে তারা জাপানি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং স্বাভাবিকভাবে কথোপকথন শুরু করার ক্ষেত্রে একটি পরিচিত বিষয়কে কাজে লাগাতে পারবেন। তার মতে, ভাষা শেখার পাশাপাশি একটি দেশের সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে ধারণা থাকলে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য তা সহায়ক হতে পারে। অনুষ্ঠানে প্রোসার্চ জাপানিজ লার্নিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের হাতে স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বই তুলে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বইগুলো পড়েন এবং গল্প বলার ভিন্নধর্মী পদ্ধতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। এ সময় তারা বাংলাদেশে তৈরি মাঙ্গা পড়ার ও দেখার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন। জাপানি ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের প্রভাব কীভাবে বাংলাদেশের স্থানীয় সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করছে, সেটিও শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা, গল্প বলার নতুন মাধ্যম সম্পর্কে ধারণা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরিতে আগ্রহী করে তুলতে পারে।

ফোরনেটশা বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশে পড়াশোনা, কাজ কিংবা বসবাসের প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য ভাষাজ্ঞানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বোঝাপড়াও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় মাঙ্গা ও সৃজনশীল প্রতিভাকে পরিচিত করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। মাঙ্গা বই উপহারের এ কার্যক্রমকে সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি অংশ হিসেবে দেখছে আয়োজকরা। তাদের মতে, শিক্ষা, তরুণদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সঙ্গে মাঙ্গা সংস্কৃতিকে যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশে এ শিল্প ও সৃজনশীল মাধ্যমের বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে তৈরি মাঙ্গা বইয়ের মাধ্যমে জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাপানের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আরও বেশি সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।