Dhaka 5:19 am, Friday, 2 October 2026
শিরোনাম:
ঢাকায় ‘ক্যানবেরা ইউনিভার্সিটি’ ক্যাম্পাস চালুর আহ্বান,অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির ফেনী-পরশুরামে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আনসার-ভিডিপির নতুন সদর দপ্তর, নতুন উদ্দীপনায় কাজের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলা কিউআর’ লেনদেন সম্পূর্ণ ফ্রি, লাগবে না কোনো চার্জ: অর্থমন্ত্রী ভিন্নমতের প্রতি সম্মানই গণতন্ত্রের আসল শক্তি’: মাহদী আমিন বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনে প্রোসার্চ শিক্ষার্থীদের মাঙ্গা বই উপহার প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের স্বার্থ ও বৈশ্বিক সম্ভাবনার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে: মাহদী আমিন বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা ও তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না: প্রধানমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পথে বাংলাদেশ: ড. তিতুমীর

বাংলা কিউআর’ লেনদেন সম্পূর্ণ ফ্রি, লাগবে না কোনো চার্জ: অর্থমন্ত্রী

সময় পোস্ট:ক্যাশলেস বাংলাদেশ ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ কোডভিত্তিক লেনদেনে কোনো ফি বা চার্জ দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। এর জন্য গ্রাহক বা ব্যবসায়ীকে বাড়তি কোনো ফি বা চার্জ বহন করতে হবে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজারে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার করে পণ্য কেনাকাটার কার্যক্রম উদ্বোধন এবং কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও ডিজিটাল ও ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থাকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র বিক্রেতা, ফুচকা বিক্রেতা, রিকশাচালক ও ছোট ব্যবসায়ীদেরও এই ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের অন্যতম লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল পেমেন্টকে সহজ ও সহজলভ্য করা। এ ব্যবস্থায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও কিউআর কোডের মাধ্যমে ক্রেতার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। ফুটপাতের দোকান, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী—সবাইকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। একজন বিক্রেতা যেকোনো ব্যাংক অথবা সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারীর অ্যাকাউন্টে কিউআর কোডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে লেনদেনের জন্য নগদ টাকা হাতে রাখা বা বহনের প্রয়োজন কমে আসবে। সরকার মনে করছে, নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে লেনদেনের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ের জন্য অর্থ পরিশোধ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়তি ফি বা চার্জ দিতে হবে না। অর্থাৎ কিউআর কোডের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ কিংবা অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লেনদেন ব্যয় থাকবে না। তিনি বলেন, ক্যাশলেস ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। লেনদেন যদি সহজ, নিরাপদ এবং ব্যয়বিহীন হয়, তাহলে মানুষ ধীরে ধীরে নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আরও বেশি অভ্যস্ত হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কোনো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ বা সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ছোটখাটো কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক লেনদেনের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও বাড়বে। ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য সেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে ক্যাশলেস লেনদেন এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব দেশে সহজ ও নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে কার্যকর ও সফল হয়েছে। বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজস্ব ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে চায়। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনকে সর্বজনীন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার ব্যাপক। কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা বিস্তৃত হলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের দৈনন্দিন লেনদেনে এর ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ ও পরিশোধ করা গেলে লেনদেনের সময়ও কমবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থ গ্রহণের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষও সহজে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

সরকারের পরিকল্পনায় শুধু শহরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী বা বড় প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ফুচকা বিক্রেতা, রিকশাচালক, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ ছোট পরিসরে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে ক্যাশলেস অর্থনীতির পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সুবিধা যেন শুধু বড় ব্যবসায়ী বা নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন এর সুবিধা নিতে পারেন—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্যাশলেস ও নিরাপদ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং সেবা প্রদানকারীদের সরকারের এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। অর্থমন্ত্রীর মতে, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের লেনদেন সহজ হবে, অন্যদিকে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার পরিধিও বাড়বে। এর মাধ্যমে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার সরকারি উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

ঢাকায় ‘ক্যানবেরা ইউনিভার্সিটি’ ক্যাম্পাস চালুর আহ্বান,অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির

বাংলা কিউআর’ লেনদেন সম্পূর্ণ ফ্রি, লাগবে না কোনো চার্জ: অর্থমন্ত্রী

Update Time : 02:13:29 pm, Thursday, 1 October 2026

সময় পোস্ট:ক্যাশলেস বাংলাদেশ ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ কোডভিত্তিক লেনদেনে কোনো ফি বা চার্জ দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কিউআর কোড ব্যবহার করে যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। এর জন্য গ্রাহক বা ব্যবসায়ীকে বাড়তি কোনো ফি বা চার্জ বহন করতে হবে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজারে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার করে পণ্য কেনাকাটার কার্যক্রম উদ্বোধন এবং কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও ডিজিটাল ও ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থাকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র বিক্রেতা, ফুচকা বিক্রেতা, রিকশাচালক ও ছোট ব্যবসায়ীদেরও এই ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের অন্যতম লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের জন্য ডিজিটাল পেমেন্টকে সহজ ও সহজলভ্য করা। এ ব্যবস্থায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও কিউআর কোডের মাধ্যমে ক্রেতার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। ফুটপাতের দোকান, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী—সবাইকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। একজন বিক্রেতা যেকোনো ব্যাংক অথবা সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারীর অ্যাকাউন্টে কিউআর কোডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে লেনদেনের জন্য নগদ টাকা হাতে রাখা বা বহনের প্রয়োজন কমে আসবে। সরকার মনে করছে, নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে লেনদেনের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ের জন্য অর্থ পরিশোধ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়তি ফি বা চার্জ দিতে হবে না। অর্থাৎ কিউআর কোডের মাধ্যমে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ কিংবা অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লেনদেন ব্যয় থাকবে না। তিনি বলেন, ক্যাশলেস ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। লেনদেন যদি সহজ, নিরাপদ এবং ব্যয়বিহীন হয়, তাহলে মানুষ ধীরে ধীরে নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আরও বেশি অভ্যস্ত হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কোনো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ বা সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ছোটখাটো কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক লেনদেনের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও বাড়বে। ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য সেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে ক্যাশলেস লেনদেন এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব দেশে সহজ ও নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ইতোমধ্যে কার্যকর ও সফল হয়েছে। বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজস্ব ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে চায়। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনকে সর্বজনীন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার ব্যাপক। কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা বিস্তৃত হলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের দৈনন্দিন লেনদেনে এর ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ ও পরিশোধ করা গেলে লেনদেনের সময়ও কমবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থ গ্রহণের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষও সহজে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

সরকারের পরিকল্পনায় শুধু শহরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী বা বড় প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ফুচকা বিক্রেতা, রিকশাচালক, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ ছোট পরিসরে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে ক্যাশলেস অর্থনীতির পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সুবিধা যেন শুধু বড় ব্যবসায়ী বা নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন এর সুবিধা নিতে পারেন—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্যাশলেস ও নিরাপদ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং সেবা প্রদানকারীদের সরকারের এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। অর্থমন্ত্রীর মতে, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের লেনদেন সহজ হবে, অন্যদিকে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার পরিধিও বাড়বে। এর মাধ্যমে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার সরকারি উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।