Dhaka 6:51 am, Monday, 2 March 2026
শিরোনাম:
১২০ কোটি টাকার ১২ তলা সরকারি সমন্বিত অফিস ভবন নির্মান প্রকল্পের দরপত্র, কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ গণপূর্ত প্রকৌশলী ফ্যাসিবাদের দোসর টিপু মুন্সির ভায়রা আবু নাসের চৌধুরী ঢাকায় পোষ্টিং বাগিয়ে বহাল তবিয়তে আবার সক্রিয় বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশল পরিষদ নেতা আলী আকবর সরকার বিএফআইইউ এবং আদালতের আদেশ অমান্য করে অবরুদ্ধকর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে হিসাব খোলায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে অভিযোগ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ট্রাম্প পরিকল্পনায় ভেটো জেলেনস্কির ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলার চার্জশিট ১৫ দিনের মধ্যে: জিএমপি কমিশনার ছাত্রদলের কমিটির মাধ্যমে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে: শিবির সেক্রেটারি নির্বাচন সিস্টেমের উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে : সিইসি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: তারেক রহমান

আমি এখন স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক,কারামুক্ত হয়ে বললেন আজহার

সময় পোস্ট: মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পাওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর কারাভোগ শেষে জনসমক্ষে এলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। কারামুক্তির পর আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি এখন মুক্ত, আমি এখন স্বাধীন। আমি এখন স্বাধীন দেশের একজন স্বাধীন নাগরিক।”

বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় আজহারুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। হাসপাতাল গেটেই দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত এক জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি আবেগঘন ভাষণে কথা বলেন।
বর্জ্য অপসারণে সেনাবাহিনী নিয়োগের খবর সত্য নয়: ডিএনসিসি

সমাবেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “প্রায় ১৪ বছর পর আমি আজ ছাড়া পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমি এখন মুক্ত, আমি এখন স্বাধীন। আল্লাহ যদি তৌফিক দেন, অবশ্যই বাকি জীবন আপনাদের সাথেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।”

তিনি বলেন, “এই মুক্তি শুধু আমার ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি একটি দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল। এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সত্য কখনও চেপে রাখা যায় না। আজ সেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমি আদালতকে ধন্যবাদ জানাই, যারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। তবে এটাও সত্য যে, এতদিন দেশে ন্যায়বিচার ছিল না। বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার আইনজীবীরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তারা তথ্য-উপাত্ত ও দলিল দিয়ে প্রমাণ করেছেন, এই মামলার কোনো ভিত্তি ছিল না। আমি আল্লাহর রহমতে মুক্ত হয়েছি, কিন্তু যারা নিহত হয়েছেন, তাদের আর ফেরানো যাবে না।”

পরে ৩৬ জুলাইয়ের ‘মহাবিপ্লব’ ও ৫ আগস্টের পতনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই মুক্তির পেছনে যারা আন্দোলন করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।”

আগামী দিনে রাজপথে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলন থেমে ছিল না, থামবেও না। আজ থেকে নতুন করে পথচলা শুরু হলো।”

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

১২০ কোটি টাকার ১২ তলা সরকারি সমন্বিত অফিস ভবন নির্মান প্রকল্পের দরপত্র, কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

আমি এখন স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক,কারামুক্ত হয়ে বললেন আজহার

Update Time : 09:35:03 am, Wednesday, 28 May 2025

সময় পোস্ট: মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পাওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর কারাভোগ শেষে জনসমক্ষে এলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। কারামুক্তির পর আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি এখন মুক্ত, আমি এখন স্বাধীন। আমি এখন স্বাধীন দেশের একজন স্বাধীন নাগরিক।”

বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় আজহারুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। হাসপাতাল গেটেই দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত এক জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি আবেগঘন ভাষণে কথা বলেন।
বর্জ্য অপসারণে সেনাবাহিনী নিয়োগের খবর সত্য নয়: ডিএনসিসি

সমাবেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “প্রায় ১৪ বছর পর আমি আজ ছাড়া পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমি এখন মুক্ত, আমি এখন স্বাধীন। আল্লাহ যদি তৌফিক দেন, অবশ্যই বাকি জীবন আপনাদের সাথেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।”

তিনি বলেন, “এই মুক্তি শুধু আমার ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি একটি দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল। এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সত্য কখনও চেপে রাখা যায় না। আজ সেই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমি আদালতকে ধন্যবাদ জানাই, যারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। তবে এটাও সত্য যে, এতদিন দেশে ন্যায়বিচার ছিল না। বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার আইনজীবীরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তারা তথ্য-উপাত্ত ও দলিল দিয়ে প্রমাণ করেছেন, এই মামলার কোনো ভিত্তি ছিল না। আমি আল্লাহর রহমতে মুক্ত হয়েছি, কিন্তু যারা নিহত হয়েছেন, তাদের আর ফেরানো যাবে না।”

পরে ৩৬ জুলাইয়ের ‘মহাবিপ্লব’ ও ৫ আগস্টের পতনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই মুক্তির পেছনে যারা আন্দোলন করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।”

আগামী দিনে রাজপথে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলন থেমে ছিল না, থামবেও না। আজ থেকে নতুন করে পথচলা শুরু হলো।”

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।