Dhaka 8:59 pm, Saturday, 18 July 2026
শিরোনাম:
পাবনা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দেশত্যাগের আশঙ্কা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে শাহজাহান আলীকে ঘিরে দুর্নীতি,টেন্ডার-বদলি সিন্ডিকেটের অভিযোগ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে দুর্নীতি ও দালালচক্রের অভিযোগ, জড়িত তিন সার্ভেয়ার সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির দশম বছরে নিহত সাত জাপানি নাগরিককে শ্রদ্ধা জানাল জাইকা পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটায় কোনো ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী এক লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী রাজস্ব আদায় বাড়ানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: নতুন এনবিআর চেয়ারম্যান মসজিদ-মন্দির ইস্যুতে প্রশ্ন তুললেন চিফ হুইপ

বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, স্বাক্ষর হলো তিন চুক্তি

সময় পোস্ট:বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনটি সমঝোতা স্মারক ও ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত ১৮ ঘণ্টার এ সফরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি, শিক্ষা, শ্রমবাজার, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

তিনটি সমঝোতা ও ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’

সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা বিষয়ে দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ বিনিময় করা হয়।

৯ খাতে সহযোগিতায় ঐকমত্য:

সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই, সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমবাজার, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত। এ লক্ষ্যে ৩৩ দফার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এফটিএ আলোচনায় অগ্রগতি:

দুই দেশের সরকারপ্রধান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শ্রমবাজার ইস্যুতে গুরুত্ব:

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে কম খরচে, স্বচ্ছ ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অবস্থায় থাকা ও আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে মানবিক সমাধানের বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রযুক্তি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা:

বৈঠকে ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিরক্ষা খাতে প্রশিক্ষণ, শান্তিরক্ষা মিশন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

ব্যবসায়িক বৈঠক ও বিনিয়োগ আগ্রহ:

সফরকালে পেট্রোনাস, এয়ারএশিয়া, আজিয়াটা, পারডুয়া ও এমএমসি পোর্টসহ মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সম্পর্কের নতুন অধ্যায়:

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংক্ষিপ্ত সফর বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দেশত্যাগের আশঙ্কা

বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, স্বাক্ষর হলো তিন চুক্তি

Update Time : 12:04:04 pm, Monday, 22 June 2026

সময় পোস্ট:বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনটি সমঝোতা স্মারক ও ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংক্ষিপ্ত ১৮ ঘণ্টার এ সফরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি, শিক্ষা, শ্রমবাজার, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

তিনটি সমঝোতা ও ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’

সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা বিষয়ে দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ বিনিময় করা হয়।

৯ খাতে সহযোগিতায় ঐকমত্য:

সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই, সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমবাজার, শিক্ষা, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত। এ লক্ষ্যে ৩৩ দফার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এফটিএ আলোচনায় অগ্রগতি:

দুই দেশের সরকারপ্রধান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শ্রমবাজার ইস্যুতে গুরুত্ব:

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে কম খরচে, স্বচ্ছ ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অবস্থায় থাকা ও আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে মানবিক সমাধানের বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রযুক্তি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা:

বৈঠকে ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিরক্ষা খাতে প্রশিক্ষণ, শান্তিরক্ষা মিশন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

ব্যবসায়িক বৈঠক ও বিনিয়োগ আগ্রহ:

সফরকালে পেট্রোনাস, এয়ারএশিয়া, আজিয়াটা, পারডুয়া ও এমএমসি পোর্টসহ মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সম্পর্কের নতুন অধ্যায়:

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংক্ষিপ্ত সফর বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।