Dhaka 4:56 am, Tuesday, 13 October 2026
শিরোনাম:
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ছুটি, নতুন পরিপত্র জারি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মারুবেনি করপোরেশনের আগ্রহ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সেবার মান বাড়ানো গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে : রাষ্ট্রপতি ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের আহ্বান বিমানমন্ত্রীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো ছাড় নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি ও সংস্কারের শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নিয়ে আলোচনা হলেও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান সম্ভব। সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় সংস্কারের শর্ত নিয়ে আলোচনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। একসঙ্গে অনেকগুলো সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ না দিয়ে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যেতে চায় সরকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন জোগানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর ব্যাংক খাতে প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে এ চাহিদা পূরণ করা কঠিন। এ কারণে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে আগে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আবার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজনও তৈরি হবে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে পারে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক ঘাটতি ও চাপ কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতেও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী। রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান চাপ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নির্ধারণে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি, ব্যাংক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ব্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্কারের মৌলিক লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। তবে বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নির্ধারণে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

Update Time : 12:37:49 pm, Monday, 12 October 2026
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি ও সংস্কারের শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নিয়ে আলোচনা হলেও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান সম্ভব। সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির আওতায় সংস্কারের শর্ত নিয়ে আলোচনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। একসঙ্গে অনেকগুলো সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ না দিয়ে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যেতে চায় সরকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন জোগানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর ব্যাংক খাতে প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে এ চাহিদা পূরণ করা কঠিন। এ কারণে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে আগে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আবার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজনও তৈরি হবে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে পারে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক ঘাটতি ও চাপ কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতেও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী। রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান চাপ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নির্ধারণে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি, ব্যাংক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ব্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্কারের মৌলিক লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। তবে বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নির্ধারণে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।