Dhaka 4:29 am, Wednesday, 7 October 2026
শিরোনাম:
শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত দামে এলপিজি না পেলে ব্যবস্থা, ডিসিদের নজরদারির নির্দেশ:তথ্য উপদেষ্টা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির চীন-ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা বা ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা লেখা বন্ধের জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন হচ্ছে না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ৫৪ কর্মকর্তাকে হাসপাতাল মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে কাজ করবে এলপি গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা, একলাফে দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

চীন-ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে বাংলাদেশের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি এশিয়ার বড় বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এশীয় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য। ভারতের বাজারেও রপ্তানি বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৫১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য। এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপানেও বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এশিয়ার বাজারগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ইপিবির হিসাবে, এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের জন্য নতুন বাজার ও পণ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা, ক্রেতাদের চাহিদা এবং নতুন পণ্য ও বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, চীন একটি বিশাল বাজার। সেখানে নতুন নতুন পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বড় সুযোগ রয়েছে। চীনের বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর ইপিবি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে হাসান আরিফ বলেন, দেশটির বিশাল ভোক্তা বাজার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ইপিবির সহযোগিতায় কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ১০ম চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে হাসান আরিফ বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে ভারত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। তবে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এখনো রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ভারতের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এজন্য বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর পাশাপাশি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, ওষুধ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান হাসান আরিফ। জাপানের বাজারেও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, এশিয়ার এসব বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়াতে পণ্যের মান নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা অনুযায়ী মান ও বিধিবিধান পরিপালন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা জরুরি। রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণে ইপিবি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, বাজার অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, কোন পণ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রয়েছে এবং নতুন কোন পণ্য নিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রপ্তানি কৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এশিয়ার বাজারে সাম্প্রতিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সেই সম্ভাবনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় বাজারে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে সফলতা এলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থান আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

চীন-ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে বাংলাদেশের

Update Time : 01:11:24 pm, Tuesday, 6 October 2026

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি এশিয়ার বড় বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এশীয় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য। ভারতের বাজারেও রপ্তানি বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৫১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য। এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপানেও বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এশিয়ার বাজারগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ইপিবির হিসাবে, এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের জন্য নতুন বাজার ও পণ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা, ক্রেতাদের চাহিদা এবং নতুন পণ্য ও বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, চীন একটি বিশাল বাজার। সেখানে নতুন নতুন পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বড় সুযোগ রয়েছে। চীনের বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর ইপিবি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে হাসান আরিফ বলেন, দেশটির বিশাল ভোক্তা বাজার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ইপিবির সহযোগিতায় কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ১০ম চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে হাসান আরিফ বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে ভারত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। তবে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এখনো রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ভারতের বিশাল ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এজন্য বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর পাশাপাশি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, ওষুধ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান হাসান আরিফ। জাপানের বাজারেও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, এশিয়ার এসব বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়াতে পণ্যের মান নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা অনুযায়ী মান ও বিধিবিধান পরিপালন, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা জরুরি। রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণে ইপিবি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, বাজার অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, কোন পণ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রয়েছে এবং নতুন কোন পণ্য নিয়ে নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রপ্তানি কৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এশিয়ার বাজারে সাম্প্রতিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সেই সম্ভাবনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় বাজারে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে সফলতা এলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থান আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।