Dhaka 4:54 am, Tuesday, 13 October 2026
শিরোনাম:
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ছুটি, নতুন পরিপত্র জারি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মারুবেনি করপোরেশনের আগ্রহ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সেবার মান বাড়ানো গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে : রাষ্ট্রপতি ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের আহ্বান বিমানমন্ত্রীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো ছাড় নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নিজের দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করতে সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁরা দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’ দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’ তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে মানুষ ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রেখেছে। তাই নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য করা উচিত নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতাআলা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’ প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য নিশ্চিত করতে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না বলে তাঁদের বক্তব্য। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন। সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তাঁরা। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : 12:34:29 pm, Monday, 12 October 2026
ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নিজের দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের যে অধিকার প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করতে সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান। মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁরা দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’ দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’ তিনি বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে মানুষ ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রেখেছে। তাই নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য করা উচিত নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতাআলা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’ প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য নিশ্চিত করতে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না বলে তাঁদের বক্তব্য। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন। সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তাঁরা। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।