Dhaka 5:12 am, Wednesday, 14 October 2026
শিরোনাম:
জবাবদিহিতা ও সুশাসনে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: ডেপুটি স্পিকার নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা, আওয়ামী লীগের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: তথ্য উপদেষ্টা বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পিত নগরায়ণের তাগিদ রাষ্ট্রপতির নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ছুটি, নতুন পরিপত্র জারি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মারুবেনি করপোরেশনের আগ্রহ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

জবাবদিহিতা ও সুশাসনে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: ডেপুটি স্পিকার

সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দল চাইলে শ্যাডো ক্যাবিনেট বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রকে কার্যকর ও জনমুখী করতে রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও জরুরি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ ও শরৎ উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কায়সার কামাল বলেন, সংসদকে রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এর জন্য আমলাতন্ত্রসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন না এলে দেশ প্রত্যাশিত অগ্রগতির পথে এগোতে পারবে না। ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, নীতি ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারে। এর মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভায় সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন বা একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে পারেন। যেমন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বাজেট, রাজস্বনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বিশ্লেষণ করবেন। একইভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা সম্ভব। কায়সার কামালের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা সরকারের জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংসদে গঠনমূলক বিতর্ক ও কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।

১৯৯১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওই সময়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালুর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছিল। কিন্তু এরপরও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। সময়ের পরিক্রমায় কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘাটতি অন্যতম কারণ ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শুধু সরকারের রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেই রাষ্ট্রের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত হয় না। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে আমলাতন্ত্রের সংস্কার প্রয়োজন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। পাশাপাশি পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় উন্নয়ন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। সংসদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার করা সম্ভব। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীরসহ অন্যরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

জবাবদিহিতা ও সুশাসনে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: ডেপুটি স্পিকার

জবাবদিহিতা ও সুশাসনে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: ডেপুটি স্পিকার

Update Time : 01:43:02 pm, Tuesday, 13 October 2026

সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দল চাইলে শ্যাডো ক্যাবিনেট বা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রকে কার্যকর ও জনমুখী করতে রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও জরুরি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ ও শরৎ উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কায়সার কামাল বলেন, সংসদকে রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এর জন্য আমলাতন্ত্রসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন না এলে দেশ প্রত্যাশিত অগ্রগতির পথে এগোতে পারবে না। ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, নীতি ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারে। এর মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভায় সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন বা একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে পারেন। যেমন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বাজেট, রাজস্বনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বিশ্লেষণ করবেন। একইভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা সম্ভব। কায়সার কামালের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা সরকারের জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংসদে গঠনমূলক বিতর্ক ও কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।

১৯৯১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওই সময়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালুর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছিল। কিন্তু এরপরও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। সময়ের পরিক্রমায় কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘাটতি অন্যতম কারণ ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শুধু সরকারের রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেই রাষ্ট্রের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত হয় না। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে আমলাতন্ত্রের সংস্কার প্রয়োজন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। পাশাপাশি পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় উন্নয়ন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। সংসদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার করা সম্ভব। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীরসহ অন্যরা।