Dhaka 9:06 am, Friday, 16 October 2026
শিরোনাম:
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের আগামীকাল শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, পাঁচ দিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক অপরাধ দমনে কঠোর সরকার, ক্লিন হার্টের মতো অভিযান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের কৌশলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের আস্থা: ড. তিতুমীর জবাবদিহিতা ও সুশাসনে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: ডেপুটি স্পিকার নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা, আওয়ামী লীগের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: তথ্য উপদেষ্টা

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলে মাঠে কাজ করার জন্য কৃষিশ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। সভায় রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকেরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না। পরিস্থিতির কারণে তাঁদের আলু রাস্তায় ফেলে দিতেও বাধ্য হতে হয়। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের অপচয় কমবে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষি গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক অগ্রগতি। ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি করছে এবং ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কৃষিবিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। এ সময় কৃষিবিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি এবং উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি খাতে পরিবর্তন এনেছিলেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি এবং আহত ব্যক্তিদের সুস্থতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Update Time : 12:20:11 pm, Thursday, 15 October 2026

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলে মাঠে কাজ করার জন্য কৃষিশ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। সভায় রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকেরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না। পরিস্থিতির কারণে তাঁদের আলু রাস্তায় ফেলে দিতেও বাধ্য হতে হয়। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের অপচয় কমবে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষি গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক অগ্রগতি। ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি করছে এবং ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কৃষিবিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। এ সময় কৃষিবিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি এবং উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি খাতে পরিবর্তন এনেছিলেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি এবং আহত ব্যক্তিদের সুস্থতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।