Dhaka 4:31 am, Monday, 19 October 2026
শিরোনাম:
মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: রিজভী জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর বাংলাদেশের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: রাষ্ট্রপতি খাল খননের মাটি দিয়ে ইট তৈরির পরিকল্পনা, টপসয়েল রক্ষায় উদ্যোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দলের পাকিস্তান সফর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের আগামীকাল শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, পাঁচ দিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজ

দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: রাষ্ট্রপতি

অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং তা পরাজিত করাই শারদীয় দুর্গাপূজার মূল দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে বারবার অন্যায়ের আবির্ভাব ঘটলেও এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং পূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্যেই দুর্গাপূজার তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বিভিন্ন সময় অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এ সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি। রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে ১৯৭৩ সালে এটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা রাজনৈতিক পক্ষের সমালোচনা করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন থেকেই মন্দিরটিকে তার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে পূজার সফলতা কামনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: রিজভী

দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: রাষ্ট্রপতি

Update Time : 03:41:19 pm, Sunday, 18 October 2026

অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং তা পরাজিত করাই শারদীয় দুর্গাপূজার মূল দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে বারবার অন্যায়ের আবির্ভাব ঘটলেও এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং পূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্যেই দুর্গাপূজার তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বিভিন্ন সময় অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এ সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি। রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে ১৯৭৩ সালে এটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা রাজনৈতিক পক্ষের সমালোচনা করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন থেকেই মন্দিরটিকে তার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে পূজার সফলতা কামনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।