পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলের সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা ও অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপিও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। বিশেষ করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতার জন্য নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দেশটির সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। জবাবে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই ব-দ্বীপভিত্তিক দেশ। ফলে দুই দেশের ভূ-প্রকৃতি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু মিল রয়েছে। এ অভিন্ন বৈশিষ্ট্য দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর তীর সংরক্ষণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে ডাচ সরকার কাজ করতে আগ্রহী। এসব ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাংলাদেশের কাজে লাগানো যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব-দ্বীপভিত্তিক দুই দেশের অভিন্ন বাস্তবতার কারণে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে। বিশেষ করে নদীভাঙন প্রতিরোধ, নদীর তীর সংরক্ষণ এবং টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। সাক্ষাৎকালে পানিসম্পদ সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন এবং অতিরিক্ত সচিব মো. এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ প্রতিনিধি 












