Dhaka 10:47 am, Friday, 16 October 2026
শিরোনাম:
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের আগামীকাল শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, পাঁচ দিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক অপরাধ দমনে কঠোর সরকার, ক্লিন হার্টের মতো অভিযান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের কৌশলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের আস্থা: ড. তিতুমীর জবাবদিহিতা ও সুশাসনে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: ডেপুটি স্পিকার নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা, আওয়ামী লীগের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: তথ্য উপদেষ্টা

সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে দুর্নীতি ও দালালচক্রের অভিযোগ, জড়িত তিন সার্ভেয়ার

সময় পোস্ট :নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর (ডিজি শিপিং)-এ ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ড্রাইভারশিপ, মেরিনারসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে প্রার্থীদের পাস করিয়ে দিচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চীফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান তার কথিত দালাল মোঃ রাজু আহম্মেদ-এর মাধ্যমে ড্রাইভারশিপ, মেরিনারসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় জনপ্রতি ৬০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজু আহম্মেদকে অধিদপ্তরের অনেকেই মির্জা সাইফুর রহমানের ভাতিজা হিসেবে চেনেন। তাদের মাধ্যমে না গেলে অনেক পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মির্জা সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার নামে রামপুরা ও শেরেবাংলা থানায় দুটি মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে নিজ দপ্তরে ঘুষ লেনদেনের সময় দুদকের হাতে আটক হয়ে তিনি কারাভোগ করেন। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দেন এবং দুদক ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হলেও তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেছেন এবং বর্তমানে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। অভিযোগে চীফ নটিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন-এর নামও উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তারা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালনা করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

এদিকে মোঃ আরাফাত হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ও সার্ভেয়ার, তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ড্রাইভারশিপ ও মেরিনার পরীক্ষায় মোঃ রাজু আহম্মেদ-এর মাধ্যমে আসা পরীক্ষার্থীদেরই অর্থের বিনিময়ে পাস করানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, মির্জা সাইফুর রহমান ও আরাফাত হোসেন একই দালালচক্র ব্যবহার করেন এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অধিদপ্তরের সবারই জানা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার আগেই কিছু মেরিনারকে ৪৫তম ব্যাচের এক মেরিনারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি দালাল হিসেবে কাজ করেন এবং পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। অতীতে এক চীফ ইঞ্জিনিয়ার ঘুষ নেওয়ার সময় দুদকের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকেই অনেক কর্মকর্তা সরাসরি অর্থ গ্রহণ না করে দালালের মাধ্যমে লেনদেন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, মোঃ আরাফাত হোসেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার মির্জা সাইফুর রহমানের নির্দেশ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। এছাড়া মির্জা সাইফুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে আরাফাত হোসেন তাকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের সব ধরনের পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশ নৌবাহিনী অথবা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের মতে, এতে পরীক্ষা পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে দুর্নীতি ও দালালচক্রের অভিযোগ, জড়িত তিন সার্ভেয়ার

Update Time : 03:51:46 pm, Thursday, 9 July 2026

সময় পোস্ট :নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর (ডিজি শিপিং)-এ ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ড্রাইভারশিপ, মেরিনারসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে প্রার্থীদের পাস করিয়ে দিচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চীফ ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান তার কথিত দালাল মোঃ রাজু আহম্মেদ-এর মাধ্যমে ড্রাইভারশিপ, মেরিনারসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় জনপ্রতি ৬০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজু আহম্মেদকে অধিদপ্তরের অনেকেই মির্জা সাইফুর রহমানের ভাতিজা হিসেবে চেনেন। তাদের মাধ্যমে না গেলে অনেক পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মির্জা সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার নামে রামপুরা ও শেরেবাংলা থানায় দুটি মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে নিজ দপ্তরে ঘুষ লেনদেনের সময় দুদকের হাতে আটক হয়ে তিনি কারাভোগ করেন। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দেন এবং দুদক ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হলেও তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেছেন এবং বর্তমানে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। অভিযোগে চীফ নটিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন-এর নামও উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তারা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালনা করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

এদিকে মোঃ আরাফাত হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ও সার্ভেয়ার, তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ড্রাইভারশিপ ও মেরিনার পরীক্ষায় মোঃ রাজু আহম্মেদ-এর মাধ্যমে আসা পরীক্ষার্থীদেরই অর্থের বিনিময়ে পাস করানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, মির্জা সাইফুর রহমান ও আরাফাত হোসেন একই দালালচক্র ব্যবহার করেন এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অধিদপ্তরের সবারই জানা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার আগেই কিছু মেরিনারকে ৪৫তম ব্যাচের এক মেরিনারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি দালাল হিসেবে কাজ করেন এবং পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। অতীতে এক চীফ ইঞ্জিনিয়ার ঘুষ নেওয়ার সময় দুদকের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকেই অনেক কর্মকর্তা সরাসরি অর্থ গ্রহণ না করে দালালের মাধ্যমে লেনদেন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, মোঃ আরাফাত হোসেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার মির্জা সাইফুর রহমানের নির্দেশ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। এছাড়া মির্জা সাইফুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে আরাফাত হোসেন তাকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের সব ধরনের পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশ নৌবাহিনী অথবা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের মতে, এতে পরীক্ষা পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে।