Dhaka 5:06 pm, Tuesday, 28 July 2026
শিরোনাম:
দেশজুড়ে অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার রাজধানীতে বিউটি পার্লারের ছড়াছড়ি, ফেসবুক বিজ্ঞাপন ও পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রজ্ঞাপন জারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটি: মির্জা ফখরুল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে: আইনমন্ত্রী জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিশ্বকাপ ফাইনালে মহারণ: আর্জেন্টিনার আবেগ, স্পেনের শৃঙ্খলা—কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি? বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম, সর্বনিম্ন মূল্য ১০ হাজার ডলার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের দাপুটে জয়

রাজধানীতে বিউটি পার্লারের ছড়াছড়ি, ফেসবুক বিজ্ঞাপন ও পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকায় সৌন্দর্যচর্চার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিউটি পার্লারের পাশাপাশি গড়ে উঠছে বিভিন্ন অ্যাসথেটিক ও বিউটি ট্রেনিং সেন্টার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রধান প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এসব প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের সৌন্দর্যসেবা, বিশেষ অফার ও প্রশিক্ষণের তথ্য প্রচার করছে। তবে এসব প্রচারণার আড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক অনুমোদন, সেবার ধরন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, ব্যবহৃত প্রসাধনীর বৈধতা ও মান, গ্রাহকের ছবি-ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি এবং ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। এমনই প্রশ্নের মুখে রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় পরিচালিত ‘Glow Touch’। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ ও সরেজমিনে পাওয়া তথ্য-ছবি বিশ্লেষণ করে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর শমরিতা হাসপাতাল সংলগ্ন ‘গ্লো টাচ’ (Glow Touch) নামে একটি বিউটি পার্লার (ঠিকানা: ৪৪/এফ/৮এ, পান্থপথ, ঢাকা, যোগাযোগ: ০১৭৯৬-৫৮৭৯৬০) তাদের ফেসবুক পেজে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে গ্রাহক আকর্ষণ করছে

ফেসবুক বিজ্ঞাপনে নানা সেবার প্রচারণা :

 

Glow Touch-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত প্রচারণামূলক পোস্টে  Laser Hair Removal, Party Makeup, Permanent Tattoo, Permanent Mole Remove, Permanent Lip Colour, Permanent Eyebrows, Permanent Tattoo Remove, Permanent Hair Remove, BB Glow Facial, Hydra Facial, Carbon Hollywood Facial এবং Hair Extensionসহ বিভিন্ন সেবার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রচারসামগ্রীতে ‘Glow Touch  Aesthetic and  Training Center’ পরিচয়ও ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে স্কিন, হেয়ার, লেজার ও মেকওভার বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ‘Professional Training’, ‘Expert Trainers’ এবং ‘Hands-on Practical Learning’-এর মতো তথ্যও প্রচার করা হচ্ছে।

এতে প্রশ্ন উঠছে—প্রতিষ্ঠানটি শুধুই বিউটি পার্লার, নাকি অ্যাসথেটিক ও লেজারভিত্তিক বিশেষায়িত সেবাও পরিচালনা করছে? এসব সেবার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রশিক্ষিত জনবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে লেজার হেয়ার রিমুভাল, পার্মানেন্ট ট্যাটু, মোল রিমুভাল, পার্মানেন্ট লিপ কালার ও পার্মানেন্ট আইব্রোজ-এর মতো সেবার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও পণ্যের মান এবং সেবা প্রদানকারীদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ছবিতে দেখা প্রসাধনী, অনুমোদন আছে তো?

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বোতলজাত প্রসাধনী ও স্কিন কেয়ার পণ্যের ছবিও দেখা যায়। একটি পোস্টে একাধিক পণ্যের ছবি দিয়ে গ্রাহকদের উদ্দেশে প্রচারণা চালানো হয়েছে। আরেকটি পোস্টে ছোট ছোট অ্যাম্পুল বা ভায়ালজাত পণ্যের ছবি প্রকাশ করে ‘খাজানা আসছে’ ধরনের প্রচারণা করা হয়েছে। ছবিগুলোতে কিছু পণ্যের নাম বা লেবেল আংশিকভাবে দৃশ্যমান হলেও এসব পণ্যের বৈধ উৎস, উৎপাদনকারী বা আমদানিকারক, ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ, আমদানি কাগজপত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনুমোদন বা মান সনদ রয়েছে কি না—তা ছবির ভিত্তিতে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে গ্রাহকের ত্বক ও শরীরে সরাসরি ব্যবহার করা এসব পণ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নথি যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কোনো পণ্য বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মানের আওতায় পড়ে কি না, বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে কি না এবং বাজারজাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না—তা যাচাই করা প্রয়োজন।

‘Aesthetic and Training Center’ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে স্পষ্টভাবে ‘Aesthetic and Training Center’ লেখা রয়েছে। ফেসবুক পেজেও বিউটি ও স্কিন কেয়ারের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের প্রচারণা রয়েছে। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি যদি নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, তাহলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা অনুমোদন রয়েছে কি না। প্রশিক্ষকদের যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের সিলেবাস, প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া সনদের গ্রহণযোগ্যতা এবং সনদটি কোনো সরকারি বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কি না—এসব তথ্যও জনসমক্ষে পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন।

ফেসবুক পেজে ঠিকানা নিয়েও যাচাইয়ের প্রয়োজন

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী ঠিকানা হিসেবে 44/AF/8A, Pantoneer, Panthapath, Dhaka-1205 উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রচারসামগ্রীতেও পান্থপথের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ফেসবুক পেজে দেওয়া ঠিকানা, সাইনবোর্ডে থাকা ঠিকানা এবং ট্রেড লাইসেন্স বা সরকারি নথিতে নিবন্ধিত ঠিকানা একই কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি ভবনটির ব্যবহার আবাসিক না বাণিজ্যিক এবং সেখানে বিউটি পার্লার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

গ্রাহকের ছবি-ভিডিও প্রচারণায় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না:

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজের বিভিন্ন পোস্ট ও ‘Highlights’-এ সৌন্দর্যসেবা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। এ ধরনের ছবি বা ভিডিও ব্যবসায়িক প্রচারণায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে সৌন্দর্যসেবার আগে ও পরের ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ভিডিও প্রচারের ক্ষেত্রে গ্রাহকের গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুমোদন আছে কি?

প্রতিষ্ঠানটি যে ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেটি আবাসিক নাকি বাণিজ্যিক—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদি ভবনটি আবাসিক হিসেবে অনুমোদিত হয়ে থাকে, সেখানে বিউটি পার্লারের মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভবনের ব্যবহার অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

ভ্যাট-ট্যাক্সের হিসাবও যাচাইয়ের দাবি:

প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সৌন্দর্যসেবা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কথা প্রচার করছে। ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সেবার প্রচারণা ও প্যাকেজের তথ্যও রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন, বিক্রয় ও আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং ভ্যাট রিটার্ন যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও দাখিল করা হচ্ছে কি না—তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বা সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে ব্যবসার পরিধি ও প্রচারিত সেবার ধরন বিবেচনায় কর ও ভ্যাট-সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, নজরদারি প্রয়োজন পুরো খাতে:

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিউটি পার্লার ও অ্যাসথেটিক সেন্টারগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। ট্রেড লাইসেন্স, ভবনের ব্যবহার অনুমোদন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বৈধতা, কর্মীদের যোগ্যতা, ব্যবহৃত প্রসাধনীর মান ও উৎস, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা, বিজ্ঞাপনের সত্যতা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ—সব বিষয়েই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি থাকা দরকার। বিশেষ করে লেজার বা ত্বকে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Glow Touch কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এসব বিষয়ে Glow Touch কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোন জবাব দিতে রাজি হন নাই । প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ব্যবহৃত প্রসাধনীর অনুমোদন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বৈধতা, ব্যবসায়িক নিবন্ধন, গ্রাহকের ছবি ব্যবহারের সম্মতি এবং ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত নথি সম্পর্কে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সিটি করপোরেশন, বিএসটিআই, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই করে দেখলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশজুড়ে অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার

রাজধানীতে বিউটি পার্লারের ছড়াছড়ি, ফেসবুক বিজ্ঞাপন ও পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : 10:03:09 am, Tuesday, 28 July 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকায় সৌন্দর্যচর্চার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিউটি পার্লারের পাশাপাশি গড়ে উঠছে বিভিন্ন অ্যাসথেটিক ও বিউটি ট্রেনিং সেন্টার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে প্রধান প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে এসব প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের সৌন্দর্যসেবা, বিশেষ অফার ও প্রশিক্ষণের তথ্য প্রচার করছে। তবে এসব প্রচারণার আড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক অনুমোদন, সেবার ধরন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, ব্যবহৃত প্রসাধনীর বৈধতা ও মান, গ্রাহকের ছবি-ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি এবং ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। এমনই প্রশ্নের মুখে রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় পরিচালিত ‘Glow Touch’। প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ ও সরেজমিনে পাওয়া তথ্য-ছবি বিশ্লেষণ করে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর শমরিতা হাসপাতাল সংলগ্ন ‘গ্লো টাচ’ (Glow Touch) নামে একটি বিউটি পার্লার (ঠিকানা: ৪৪/এফ/৮এ, পান্থপথ, ঢাকা, যোগাযোগ: ০১৭৯৬-৫৮৭৯৬০) তাদের ফেসবুক পেজে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে গ্রাহক আকর্ষণ করছে

ফেসবুক বিজ্ঞাপনে নানা সেবার প্রচারণা :

 

Glow Touch-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত প্রচারণামূলক পোস্টে  Laser Hair Removal, Party Makeup, Permanent Tattoo, Permanent Mole Remove, Permanent Lip Colour, Permanent Eyebrows, Permanent Tattoo Remove, Permanent Hair Remove, BB Glow Facial, Hydra Facial, Carbon Hollywood Facial এবং Hair Extensionসহ বিভিন্ন সেবার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রচারসামগ্রীতে ‘Glow Touch  Aesthetic and  Training Center’ পরিচয়ও ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে স্কিন, হেয়ার, লেজার ও মেকওভার বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ‘Professional Training’, ‘Expert Trainers’ এবং ‘Hands-on Practical Learning’-এর মতো তথ্যও প্রচার করা হচ্ছে।

এতে প্রশ্ন উঠছে—প্রতিষ্ঠানটি শুধুই বিউটি পার্লার, নাকি অ্যাসথেটিক ও লেজারভিত্তিক বিশেষায়িত সেবাও পরিচালনা করছে? এসব সেবার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রশিক্ষিত জনবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে লেজার হেয়ার রিমুভাল, পার্মানেন্ট ট্যাটু, মোল রিমুভাল, পার্মানেন্ট লিপ কালার ও পার্মানেন্ট আইব্রোজ-এর মতো সেবার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও পণ্যের মান এবং সেবা প্রদানকারীদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ছবিতে দেখা প্রসাধনী, অনুমোদন আছে তো?

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বোতলজাত প্রসাধনী ও স্কিন কেয়ার পণ্যের ছবিও দেখা যায়। একটি পোস্টে একাধিক পণ্যের ছবি দিয়ে গ্রাহকদের উদ্দেশে প্রচারণা চালানো হয়েছে। আরেকটি পোস্টে ছোট ছোট অ্যাম্পুল বা ভায়ালজাত পণ্যের ছবি প্রকাশ করে ‘খাজানা আসছে’ ধরনের প্রচারণা করা হয়েছে। ছবিগুলোতে কিছু পণ্যের নাম বা লেবেল আংশিকভাবে দৃশ্যমান হলেও এসব পণ্যের বৈধ উৎস, উৎপাদনকারী বা আমদানিকারক, ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ, আমদানি কাগজপত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনুমোদন বা মান সনদ রয়েছে কি না—তা ছবির ভিত্তিতে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে গ্রাহকের ত্বক ও শরীরে সরাসরি ব্যবহার করা এসব পণ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নথি যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কোনো পণ্য বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মানের আওতায় পড়ে কি না, বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে কি না এবং বাজারজাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না—তা যাচাই করা প্রয়োজন।

‘Aesthetic and Training Center’ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে স্পষ্টভাবে ‘Aesthetic and Training Center’ লেখা রয়েছে। ফেসবুক পেজেও বিউটি ও স্কিন কেয়ারের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের প্রচারণা রয়েছে। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি যদি নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, তাহলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা অনুমোদন রয়েছে কি না। প্রশিক্ষকদের যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের সিলেবাস, প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া সনদের গ্রহণযোগ্যতা এবং সনদটি কোনো সরকারি বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কি না—এসব তথ্যও জনসমক্ষে পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন।

ফেসবুক পেজে ঠিকানা নিয়েও যাচাইয়ের প্রয়োজন

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী ঠিকানা হিসেবে 44/AF/8A, Pantoneer, Panthapath, Dhaka-1205 উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রচারসামগ্রীতেও পান্থপথের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ফেসবুক পেজে দেওয়া ঠিকানা, সাইনবোর্ডে থাকা ঠিকানা এবং ট্রেড লাইসেন্স বা সরকারি নথিতে নিবন্ধিত ঠিকানা একই কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি ভবনটির ব্যবহার আবাসিক না বাণিজ্যিক এবং সেখানে বিউটি পার্লার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

গ্রাহকের ছবি-ভিডিও প্রচারণায় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না:

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজের বিভিন্ন পোস্ট ও ‘Highlights’-এ সৌন্দর্যসেবা গ্রহণকারী ব্যক্তিদের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। এ ধরনের ছবি বা ভিডিও ব্যবসায়িক প্রচারণায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে সৌন্দর্যসেবার আগে ও পরের ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ভিডিও প্রচারের ক্ষেত্রে গ্রাহকের গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অনুমোদন আছে কি?

প্রতিষ্ঠানটি যে ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেটি আবাসিক নাকি বাণিজ্যিক—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদি ভবনটি আবাসিক হিসেবে অনুমোদিত হয়ে থাকে, সেখানে বিউটি পার্লারের মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভবনের ব্যবহার অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

ভ্যাট-ট্যাক্সের হিসাবও যাচাইয়ের দাবি:

প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সৌন্দর্যসেবা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কথা প্রচার করছে। ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সেবার প্রচারণা ও প্যাকেজের তথ্যও রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিআইএন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন, বিক্রয় ও আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং ভ্যাট রিটার্ন যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও দাখিল করা হচ্ছে কি না—তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বা সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে ব্যবসার পরিধি ও প্রচারিত সেবার ধরন বিবেচনায় কর ও ভ্যাট-সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, নজরদারি প্রয়োজন পুরো খাতে:

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিউটি পার্লার ও অ্যাসথেটিক সেন্টারগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। ট্রেড লাইসেন্স, ভবনের ব্যবহার অনুমোদন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বৈধতা, কর্মীদের যোগ্যতা, ব্যবহৃত প্রসাধনীর মান ও উৎস, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা, বিজ্ঞাপনের সত্যতা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ—সব বিষয়েই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি থাকা দরকার। বিশেষ করে লেজার বা ত্বকে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Glow Touch কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এসব বিষয়ে Glow Touch কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোন জবাব দিতে রাজি হন নাই । প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ব্যবহৃত প্রসাধনীর অনুমোদন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বৈধতা, ব্যবসায়িক নিবন্ধন, গ্রাহকের ছবি ব্যবহারের সম্মতি এবং ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত নথি সম্পর্কে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সিটি করপোরেশন, বিএসটিআই, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই করে দেখলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।