সময় পোস্ট:আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শতভাগ সফলতা অর্জন সম্ভব না হলেও অন্তত ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করবে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী তিন মাসে ডেঙ্গুর যে সমস্যাটা, এই সমস্যাটার আমরা সমাধান করার চেষ্টা করব। হয়তো আমরা ১০০ ভাগ পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ ভাগ আমরা পারব।’ তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে এলে কোনো শক্তিই তাদের এই উদ্যোগকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনে তরুণ সমাজকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে। তাদের সম্মিলিত শক্তিকে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজে লাগানো গেলে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমি একটা সাহায্য চাই, হেল্প চাই। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে স্কাউটের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসি সদস্যের সংখ্যা ২২ হাজার। এ ছাড়া প্রাথমিক স্কুল-মাদ্রাসা ছাড়াও সারা দেশে হাইস্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। আর প্রাথমিক স্কুল-মাদ্রাসাসহ আড়াই কোটি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি দেশের পুনর্গঠনে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে বড় কোনো বাধাই তাদের থামিয়ে রাখতে পারবে না। দেশকে কীভাবে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা যায়, সে দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকেও নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘এবার আপনারা আমাকে বলেন, এতগুলো মানুষ—আমরা যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। এখন আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে, দেশটা কীভাবে আমরা গড়ে তুলব। এই দেশটা আমাদের গড়ে তুলতে হবে, কারণ এই দেশে আমরা সকলে থাকব।’
পরিচ্ছন্ন দেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগ:
প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ একই লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তিনি সবাইকে একত্র হয়ে নিজেদের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে এই যে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি, এই যে হাজার হাজার মানুষ এই মাঠে, সারা দেশের সবগুলো জেলাতে মিলিয়ে লাখ লাখ মানুষ যারা আমরা একত্রিত হয়েছি, আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছি যে, আমরা আমাদের দেশকে পরিষ্কার করব, আবর্জনামুক্ত করার চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে সরকার একদিকে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়াতে চায়, অন্যদিকে নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন করতে চায়। প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যে সেই সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরই গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য
Reporter Name 


















