সময় পোস্ট:আদালতের স্থগিতাদেশের পরও ভারতীয় নাগরিকের নামে জমি নামজারির অভিযোগ, ডেমরার এসিল্যান্ড রাকিবুলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি আদালতের স্থগিতাদেশ সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলার ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে আপিল আদালত থেকে ওই নামজারি বাতিলের আদেশ এলেও তা কার্যকর করতে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. মাহমুদুল হাসান মুরাদ নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগের সূত্রপাত:
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের নামজারি মামলা নং-১২৬৯১/২৫-২৬। গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে এই মামলার বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করেন মুরাদ। তার অভিযোগ, নামজারির জন্য আবেদনকারী রাম আনন্দ মন্ডল একজন ভারতীয় নাগরিক এবং তার নাগরিকত্ব ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে আদালতে একটি মামলা ইতিমধ্যে বিচারাধীন ছিল। এই বিষয়টি উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দলিলাদি জমা দেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। মুরাদের দাবি অনুযায়ী, একই সম্পত্তি নিয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), ঢাকার আদালতে আপিল মামলা নং-৪৩৮/২৪ চলমান ছিল, এবং নিম্ন আদালতে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখারও আদেশ ছিল। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাকে জানানো সত্ত্বেও ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই সম্পত্তির নামজারি সম্পন্ন করে দেওয়া হয়—যা অভিযোগের একটি মূল অংশ। অভিযোগের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ হলো, আদালতের আদেশ ও চলমান আপিল মামলার বিষয়টি উপেক্ষা করে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুরাদ। তার হিসাব অনুযায়ী, এই লেনদেনের পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সমর্থনে কোনো স্বতন্ত্র বা প্রামাণ্য দলিল এখনো পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ এটি এখন পর্যন্ত অভিযোগকারীর একতরফা দাবি হিসেবেই রয়ে গেছে, যা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
আপিল আদালতের আদেশ ও বাস্তবায়নে গড়িমসি:
বিষয়টি নিয়ে গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), ঢাকার আপিল আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নথিপত্র পর্যালোচনা ও শুনানি শেষে আদালত ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের ওই নামজারি মামলাটি বাতিলের আদেশ দেন বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। কিন্তু আপিল আদালতের এই আদেশের পরও বাস্তবে নামজারি বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মুরাদ। তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইচ্ছাকৃত সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক পর্যায়ে এমন গড়িমসি তাকে ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করছে। এই পরিস্থিতিতে মুরাদ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার দাবির মধ্যে রয়েছে—নামজারি মামলার সম্পূর্ণ নথি পর্যালোচনা, আদালতের স্থগিতাদেশ যাচাই, আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ, নামজারি সম্পন্নের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা এবং এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্ত করা। পাশাপাশি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকিবুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংবাদে সংযুক্ত করা হবে।
সংক্ষেপে বলা যায়, এই অভিযোগে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও নামজারি সম্পন্ন করা, বিদেশি নাগরিকের সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা এবং আপিল আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগটি যেহেতু এখনো অপ্রমাণিত, তাই পুরো বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে প্রশাসনিক তদন্তই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 




















