Dhaka 9:16 pm, Saturday, 17 October 2026
শিরোনাম:
খাল খননের মাটি দিয়ে ইট তৈরির পরিকল্পনা, টপসয়েল রক্ষায় উদ্যোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দলের পাকিস্তান সফর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের আগামীকাল শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, পাঁচ দিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক

ঢাকায় ‘ক্যানবেরা ইউনিভার্সিটি’ ক্যাম্পাস চালুর আহ্বান,অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির

সময় পোস্ট:বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জ্বালানি নিরাপত্তা ও এলএনজি আমদানি: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।বিনিয়োগ বৃদ্ধি: বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন: তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশলসহ অন্যান্য কারিগরি ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান তিনি। কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন: দেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তির দক্ষতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন’ (TAFE) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (TTC) সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। বিশেষ করে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষা খাতে সহযোগিতা: বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচির পাশাপাশি ঢাকায় ‘ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরা’র একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান: দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে দেশটির রাজনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
গভর্নর জেনারেলের শুভেচ্ছাপত্র হস্তান্তর

সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দেশটির গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসি’র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন ও শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং টিআইএফএ (TIFA) বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হাইকমিশনারের প্রতিক্রিয়া ও ব্যাংকিং সংস্কারের প্রশংসা সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বাংলাদেশে চলমান ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে উপস্থিত ছিলেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল খননের মাটি দিয়ে ইট তৈরির পরিকল্পনা, টপসয়েল রক্ষায় উদ্যোগ

ঢাকায় ‘ক্যানবেরা ইউনিভার্সিটি’ ক্যাম্পাস চালুর আহ্বান,অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির

Update Time : 02:21:07 pm, Thursday, 1 October 2026
সময় পোস্ট:বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জ্বালানি নিরাপত্তা ও এলএনজি আমদানি: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।বিনিয়োগ বৃদ্ধি: বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন: তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশলসহ অন্যান্য কারিগরি ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান তিনি। কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন: দেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তির দক্ষতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন’ (TAFE) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (TTC) সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। বিশেষ করে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষা খাতে সহযোগিতা: বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচির পাশাপাশি ঢাকায় ‘ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরা’র একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান: দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে দেশটির রাজনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
গভর্নর জেনারেলের শুভেচ্ছাপত্র হস্তান্তর

সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দেশটির গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসি’র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিক অভিবাদন ও শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং টিআইএফএ (TIFA) বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হাইকমিশনারের প্রতিক্রিয়া ও ব্যাংকিং সংস্কারের প্রশংসা সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বাংলাদেশে চলমান ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে উপস্থিত ছিলেন।