Dhaka 9:20 pm, Saturday, 17 October 2026
শিরোনাম:
খাল খননের মাটি দিয়ে ইট তৈরির পরিকল্পনা, টপসয়েল রক্ষায় উদ্যোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দলের পাকিস্তান সফর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের আগামীকাল শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, পাঁচ দিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক

পুরো ঢাকা সিসিটিভির আওতায় আনতে প্রকল্প পুনর্গঠন করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সময় পোস্ট:রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগর নিরাপত্তা জোরদারে পুরো ঢাকা মহানগরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেলে এর বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের (ঢাকা-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির ডিপিপি বর্তমানে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন করলে পুরো ঢাকা মহানগর এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্দেশ্যেই ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন না পাওয়া নতুন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ডিপিপি নিয়ে গত ২৪ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারেই বর্তমানে ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত মহানগরে অপরাধ শনাক্তকরণ, অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সরকারের পরিকল্পিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মহানগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সিসিটিভি প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আধুনিকায়ন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে সরকার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় ডকইয়ার্ডে পাঁচটি নতুন ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি) নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোস্ট গার্ডের গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াতে কোস্ট গার্ড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিআরডিসি) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও চলছে। এ ছাড়া কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (সিএসএস) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ব্যবস্থা চালু হলে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরিচালনাগত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা এবং কোস্ট গার্ডের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মহিলা আসন-৪৯-এর স্বতন্ত্র সদস্য সুলতানা জেসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে দেশে মাদকবিরোধী অভিযানের চিত্রও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন (আইস), ৯ দশমিক ৫ কেজি হেরোইন, ১ কেজি আফিম এবং ১৪ বোতল এলএসডি জব্দ করেছে। এ ছাড়া ২৬ হাজার ৪৭৪ বোতল ফেনসিডিল, ১১ হাজার ৭০৭ কেজি গাঁজা এবং ৫৭ হাজার ৪৬৯ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে চলতি বছরে ১ হাজার ২১৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, থার্মাল ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের পথগুলো বন্ধ করার কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপন করেন। এ সময় বিভিন্ন সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল খননের মাটি দিয়ে ইট তৈরির পরিকল্পনা, টপসয়েল রক্ষায় উদ্যোগ

পুরো ঢাকা সিসিটিভির আওতায় আনতে প্রকল্প পুনর্গঠন করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 12:34:06 pm, Thursday, 10 September 2026

সময় পোস্ট:রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগর নিরাপত্তা জোরদারে পুরো ঢাকা মহানগরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেলে এর বাস্তবায়ন শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের (ঢাকা-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির ডিপিপি বর্তমানে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন করলে পুরো ঢাকা মহানগর এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্দেশ্যেই ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন না পাওয়া নতুন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ডিপিপি নিয়ে গত ২৪ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারেই বর্তমানে ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত মহানগরে অপরাধ শনাক্তকরণ, অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সরকারের পরিকল্পিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মহানগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সিসিটিভি প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আধুনিকায়ন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে সরকার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় ডকইয়ার্ডে পাঁচটি নতুন ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি) নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোস্ট গার্ডের গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াতে কোস্ট গার্ড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিআরডিসি) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও চলছে। এ ছাড়া কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (সিএসএস) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ব্যবস্থা চালু হলে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরিচালনাগত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা এবং কোস্ট গার্ডের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মহিলা আসন-৪৯-এর স্বতন্ত্র সদস্য সুলতানা জেসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে দেশে মাদকবিরোধী অভিযানের চিত্রও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন (আইস), ৯ দশমিক ৫ কেজি হেরোইন, ১ কেজি আফিম এবং ১৪ বোতল এলএসডি জব্দ করেছে। এ ছাড়া ২৬ হাজার ৪৭৪ বোতল ফেনসিডিল, ১১ হাজার ৭০৭ কেজি গাঁজা এবং ৫৭ হাজার ৪৬৯ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে চলতি বছরে ১ হাজার ২১৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, থার্মাল ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের পথগুলো বন্ধ করার কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপন করেন। এ সময় বিভিন্ন সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।