Dhaka 3:18 pm, Friday, 18 September 2026
শিরোনাম:
ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহ্দী আমিন গুলশান-ধানমন্ডিসহ রাজধানীর লেক রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা-যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন তথ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়তে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি র‌্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে যাত্রা শুরু ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ১৭ সেপ্টেম্বর অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক, এরপর তফসিল চূড়ান্ত: ইসি সচিব কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়াই সরকারের অঙ্গীকার: আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী সিলেটে শাহজালাল-শাহপরানের মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

গুলশান-ধানমন্ডিসহ রাজধানীর লেক রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সময় পোস্ট:রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।  বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে রাজধানীর বিভিন্ন লেকের বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস, সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।  বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি ও ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য লেকে প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সুপারিশ বৈঠকে উপস্থাপন করে। লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ করা, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া তৈরির বিষয়েও আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ধানমন্ডি লেকের ক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে চলমান সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।  বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার কথা বলা হয়। অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়। লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে নিয়োজিত রয়েছে। রাজধানীর লেকগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহ্দী আমিন

গুলশান-ধানমন্ডিসহ রাজধানীর লেক রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : 02:49:39 pm, Thursday, 17 September 2026

সময় পোস্ট:রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।  বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে রাজধানীর বিভিন্ন লেকের বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস, সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।  বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি ও ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য লেকে প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সুপারিশ বৈঠকে উপস্থাপন করে। লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ করা, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া তৈরির বিষয়েও আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ধানমন্ডি লেকের ক্ষেত্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে চলমান সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।  বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার কথা বলা হয়। অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়। লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে নিয়োজিত রয়েছে। রাজধানীর লেকগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।