Dhaka 9:33 pm, Saturday, 19 September 2026
শিরোনাম:
সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৭ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল করা হয়েছে: রিজভী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ: প্রতিমন্ত্রী ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহ্দী আমিন গুলশান-ধানমন্ডিসহ রাজধানীর লেক রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা-যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন তথ্যমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়তে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি র‌্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে যাত্রা শুরু ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ: প্রতিমন্ত্রী

সময় পোস্ট: আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পর পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীদের নিজ নিজ কার্যালয় এবং আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। জেলা সফরের সময় সরকারি প্রধান কার্যালয় ও রেস্ট হাউসগুলোও সৌরবিদ্যুতের আওতায় দেখতে চান বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় নিয়ে সরকারের নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, কত কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ কত ব্যয় হবে এবং দুই থেকে চার ঘণ্টার ব্যাকআপের জন্য ব্যাটারিতে কত খরচ হবে, তার হিসাবও নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ২০ বছরের চুক্তি করা হবে। চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০ বছর বিনামূল্যে রক্ষণাবেক্ষণ সেবা দেবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তারাই তা সমাধান করবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনা মূল্যে নেট মিটারিংয়ের ব্যবস্থা করে দেবে। কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুতের হিসাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।

মীর শাহে আলম জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে পরিশোধ করা হবে। সম্প্রসারিত সরকারি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ রাখার বিষয়টিও সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগে গুরুত্ব পেয়েছে।  তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে সরকারের আয়ের পথ তৈরি হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সগুলোতেও সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক উদ্যোগ অনুযায়ী দেশের প্রস্তুত থাকা ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।  সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ: প্রতিমন্ত্রী

Update Time : 02:53:36 pm, Saturday, 19 September 2026

সময় পোস্ট: আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পর পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীদের নিজ নিজ কার্যালয় এবং আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। জেলা সফরের সময় সরকারি প্রধান কার্যালয় ও রেস্ট হাউসগুলোও সৌরবিদ্যুতের আওতায় দেখতে চান বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় নিয়ে সরকারের নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, কত কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ কত ব্যয় হবে এবং দুই থেকে চার ঘণ্টার ব্যাকআপের জন্য ব্যাটারিতে কত খরচ হবে, তার হিসাবও নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ২০ বছরের চুক্তি করা হবে। চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০ বছর বিনামূল্যে রক্ষণাবেক্ষণ সেবা দেবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তারাই তা সমাধান করবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনা মূল্যে নেট মিটারিংয়ের ব্যবস্থা করে দেবে। কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুতের হিসাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।

মীর শাহে আলম জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে পরিশোধ করা হবে। সম্প্রসারিত সরকারি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ রাখার বিষয়টিও সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগে গুরুত্ব পেয়েছে।  তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে সরকারের আয়ের পথ তৈরি হবে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সগুলোতেও সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক উদ্যোগ অনুযায়ী দেশের প্রস্তুত থাকা ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।  সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা।