Dhaka 11:22 pm, Monday, 21 September 2026
শিরোনাম:
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক কেন্দ্র করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় ইতালি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জুলাই শহিদ মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৭ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল করা হয়েছে: রিজভী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ: প্রতিমন্ত্রী ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহ্দী আমিন গুলশান-ধানমন্ডিসহ রাজধানীর লেক রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা-যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

‘বিএনপি নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করেছিল’

সময় পোস্ট:বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থান দ্রুত গতি পেয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা। তারা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দীর্ঘদিনের নির্যাতনে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে শুভাকাক্সক্ষীদের সামাজিক জীবনও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। তাই সবকিছু উপেক্ষা করে দলের সব স্তরের নেতাকর্মী জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি নতুন ভোর, যেখানে হামলা, মামলা ও গুমের ভয় থাকবে না।’ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই অভ্যুত্থানে সারাদেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হন। বিএনপির দাবি, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শহীদ হন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ৮৪৮ জন শহীদ হন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছরের নিরন্তর আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।’তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের দলের সব স্তরের নেতাকর্মী শুরু থেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন। বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।’তবে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব এককভাবে কারও নয়। এটি সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের ভূমিকা ও নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বাসস’কে বলেন, ‘দেশের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এতে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃতিত্বের জন্য এ আন্দোলন করিনি। দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের স্বাদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং মুক্তির লক্ষ্যেই আমরা এই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।’ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম বাসস’কে বলেন, ‘আমরা যারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মী তাদের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্বপ্নের মত। সবকিছু ভুলে গিয়ে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা এই আন্দোলনকে সফল করতে মাঠে নেমেছিল। যেকারণে আমাদের দলের ৮০০-এর বেশি নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক শহীদ হয়েছেন। তারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়; গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অন্য যেকোনো ছাত্রসংগঠনের তুলনায় ছাত্রদল সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। শহীদ ওয়াসিম ও শহীদ রাব্বিসহ যারা আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’ সূত্র : বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক কেন্দ্র করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‘বিএনপি নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণই জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করেছিল’

Update Time : 02:19:13 pm, Wednesday, 5 August 2026

সময় পোস্ট:বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থান দ্রুত গতি পেয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা। তারা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দীর্ঘদিনের নির্যাতনে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে শুভাকাক্সক্ষীদের সামাজিক জীবনও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। তাই সবকিছু উপেক্ষা করে দলের সব স্তরের নেতাকর্মী জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি নতুন ভোর, যেখানে হামলা, মামলা ও গুমের ভয় থাকবে না।’ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই অভ্যুত্থানে সারাদেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হন। বিএনপির দাবি, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শহীদ হন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ৮৪৮ জন শহীদ হন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছরের নিরন্তর আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।’তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের দলের সব স্তরের নেতাকর্মী শুরু থেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন। বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।’তবে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব এককভাবে কারও নয়। এটি সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের ভূমিকা ও নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বাসস’কে বলেন, ‘দেশের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এতে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃতিত্বের জন্য এ আন্দোলন করিনি। দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের স্বাদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং মুক্তির লক্ষ্যেই আমরা এই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।’ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম বাসস’কে বলেন, ‘আমরা যারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মী তাদের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্বপ্নের মত। সবকিছু ভুলে গিয়ে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা এই আন্দোলনকে সফল করতে মাঠে নেমেছিল। যেকারণে আমাদের দলের ৮০০-এর বেশি নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক শহীদ হয়েছেন। তারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়; গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অন্য যেকোনো ছাত্রসংগঠনের তুলনায় ছাত্রদল সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। শহীদ ওয়াসিম ও শহীদ রাব্বিসহ যারা আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’ সূত্র : বাসস