Dhaka 4:46 pm, Saturday, 24 October 2026
শিরোনাম:
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনে বিরোধীদের অসহযোগিতার অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: রিজভী জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর বাংলাদেশের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: রাষ্ট্রপতি খাল খননের মাটি দিয়ে ইট তৈরির পরিকল্পনা, টপসয়েল রক্ষায় উদ্যোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দলের পাকিস্তান সফর

ডিজিটাল নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ-বহুবিবাহ ঠেকানো সহজ হবে: আইনমন্ত্রী

সময় পোস্ট: ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদসহ বিবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে জনগণ দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। একই সঙ্গে সহজে ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এবং ব্র্যাকের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় থাকা উপজেলাগুলো হলো—গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সদর।

এনআইডি ও জন্মনিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে সংযোগ:

প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করে বিবাহ নিবন্ধনের সময় বয়স ও পরিচয় যাচাই করা হবে।এর ফলে নির্ধারিত বয়সের আগে বিবাহের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে গোপন বিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদ এবং অন্যান্য অনিয়ম শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এ ব্যবস্থায় বিবাহ ও তালাকের তথ্য রিয়েল-টাইমে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের দ্রুত ডিজিটাল সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।আইনমন্ত্রী জানান, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও সংযুক্ত করা হয়েছে।

‘ইনোভেটিভ আইডিয়া গ্রহণ করতে চাই’

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জনকল্যাণে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সামনে যদি কোনো ইনোভেটিভ আইডিয়া আসে, সেটাকে আমরা গ্রহণ করে জনকল্যাণের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ ব্র্যাকের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যয় প্রায় ১১ কোটি টাকা:

আইনমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চুক্তির মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব। ডিজিটাল এই নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে বিবাহ ও তালাকের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নির্ভুল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি

ডিজিটাল নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ-বহুবিবাহ ঠেকানো সহজ হবে: আইনমন্ত্রী

Update Time : 01:33:48 pm, Wednesday, 9 September 2026

সময় পোস্ট: ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদসহ বিবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে জনগণ দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। একই সঙ্গে সহজে ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এবং ব্র্যাকের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় থাকা উপজেলাগুলো হলো—গাজীপুরের কালীগঞ্জ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, নড়াইল সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিলেট সদর, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সদর।

এনআইডি ও জন্মনিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে সংযোগ:

প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করে বিবাহ নিবন্ধনের সময় বয়স ও পরিচয় যাচাই করা হবে।এর ফলে নির্ধারিত বয়সের আগে বিবাহের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে গোপন বিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদ এবং অন্যান্য অনিয়ম শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এ ব্যবস্থায় বিবাহ ও তালাকের তথ্য রিয়েল-টাইমে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের দ্রুত ডিজিটাল সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।আইনমন্ত্রী জানান, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও সংযুক্ত করা হয়েছে।

‘ইনোভেটিভ আইডিয়া গ্রহণ করতে চাই’

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জনকল্যাণে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সামনে যদি কোনো ইনোভেটিভ আইডিয়া আসে, সেটাকে আমরা গ্রহণ করে জনকল্যাণের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ ব্র্যাকের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যয় প্রায় ১১ কোটি টাকা:

আইনমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চুক্তির মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব। ডিজিটাল এই নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে বিবাহ ও তালাকের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নির্ভুল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।