Dhaka 4:52 am, Tuesday, 22 September 2026
শিরোনাম:
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক কেন্দ্র করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় ইতালি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জুলাই শহিদ মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৭ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল করা হয়েছে: রিজভী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ: প্রতিমন্ত্রী ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহ্দী আমিন গুলশান-ধানমন্ডিসহ রাজধানীর লেক রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা-যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় বিস্ফোরিত হলো স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’

সময় পোস্ট: মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রকেট ‘স্টারশিপ’ সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছালেও ফেরার পথে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় আকাশেই বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে স্পেসএক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এই উৎক্ষেপণকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও উন্নত পরীক্ষামূলক ফ্লাইট হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা ৩৭ মিনিটে) টেক্সাসের স্টারবেইস থেকে রকেটটির নবম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচার দেখা যায় স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে।

মহাকাশের পথে ছুটে চলা অবস্থায় রকেটের প্রপেলান্ট ট্যাংকে লিক ধরা পড়ে, যার ফলে রকেটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাক খেতে শুরু করে। যাত্রীবাহী শীর্ষ অংশ ‘স্টারশিপ’ অক্ষত থাকলেও পৃথিবীতে ফেরার সময় বায়ুমণ্ডলের তীব্র তাপে তা ধ্বংস হয়ে যায়। এর ধ্বংসাবশেষ ভারত মহাসাগরে পড়ে, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে অনেক দূরে।

টাইমসের মতে, ইলন মাস্কের মঙ্গল যাত্রার স্বপ্ন সফল করতে হলে স্টারশিপের ডিজাইনে, বিশেষ করে শীর্ষ অংশে, এখনও ব্যাপক উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

এবারের ফ্লাইটের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইট সিমুলেটর কক্ষপথে স্থাপন এবং রকেটের হিট শিল্ডের কার্যকারিতা মূল্যায়ন। তবে পেলোড ডোর না খোলায় এসব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।

তবুও কিছু উল্লেখযোগ্য সফলতা রয়েছে। আগের দুবারের মতো এবার রকেট উৎক্ষেপণের সময় বিস্ফোরিত হয়নি। এছাড়া ব্যবহৃত বুস্টার পুনরায় ব্যবহারের উদ্যোগ ছিল এক বড় অগ্রগতি, যদিও অবতরণের সময় তিন ইঞ্জিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সেটি উপসাগরীয় এলাকায় ভেঙে পড়ে।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, তিন ইঞ্জিনের অবতরণ কৌশল পরীক্ষার অংশ ছিল এবং ভবিষ্যতে এর সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

এর আগে সপ্তম ও অষ্টম ফ্লাইটে রকেট আকাশেই বিস্ফোরিত হয়েছিল। তবে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ফ্লাইটে মহাকাশে গিয়ে সাফল্যের সঙ্গে পৃথিবীতে ফিরে আসার সিমুলেটেড ল্যান্ডিং করা হয়েছিল।

স্টারশিপ দুটি অংশ নিয়ে গঠিত—তরল গ্যাসচালিত ‘সুপার হেভি বুস্টার’ এবং তার ওপরে স্থাপিত ‘স্টারশিপ’ মহাকাশযান। এতে রয়েছে ৩৩টি ইঞ্জিন, যা নাসার আর্টেমিস রকেটের চেয়েও দ্বিগুণ শক্তিশালী।

সর্বশেষ মার্চ মাসের ফ্লাইটেও উৎক্ষেপণের ১০ মিনিট পর রকেট বিস্ফোরিত হয়েছিল, যার ফলে সাময়িকভাবে আকাশপথে বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ঘটনার পর এফএএ তদন্ত শুরু করে এবং সম্প্রতি স্পেসএক্সকে নতুন সংস্করণের স্টারশিপ উৎক্ষেপণের অনুমতি দেয়।

এক ব্লগ পোস্টে স্পেসএক্স জানায়, “প্রতিবার উৎক্ষেপণ আমাদের শিখতে সহায়তা করে এবং সেই অনুযায়ী আমরা ডিজাইন পরিবর্তন করি। এর মাধ্যমে স্টারশিপকে সম্পূর্ণ ও দ্রুত পুনঃব্যবহারযোগ্য মহাকাশযানে পরিণত করার পথ তৈরি হবে।” তবে তারা এটাও মনে করিয়ে দেয়, “পরীক্ষা মানেই অনিশ্চয়তা।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক কেন্দ্র করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় বিস্ফোরিত হলো স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’

Update Time : 09:43:51 am, Wednesday, 28 May 2025

সময় পোস্ট: মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রকেট ‘স্টারশিপ’ সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছালেও ফেরার পথে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় আকাশেই বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে স্পেসএক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এই উৎক্ষেপণকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও উন্নত পরীক্ষামূলক ফ্লাইট হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা ৩৭ মিনিটে) টেক্সাসের স্টারবেইস থেকে রকেটটির নবম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচার দেখা যায় স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে।

মহাকাশের পথে ছুটে চলা অবস্থায় রকেটের প্রপেলান্ট ট্যাংকে লিক ধরা পড়ে, যার ফলে রকেটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাক খেতে শুরু করে। যাত্রীবাহী শীর্ষ অংশ ‘স্টারশিপ’ অক্ষত থাকলেও পৃথিবীতে ফেরার সময় বায়ুমণ্ডলের তীব্র তাপে তা ধ্বংস হয়ে যায়। এর ধ্বংসাবশেষ ভারত মহাসাগরে পড়ে, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে অনেক দূরে।

টাইমসের মতে, ইলন মাস্কের মঙ্গল যাত্রার স্বপ্ন সফল করতে হলে স্টারশিপের ডিজাইনে, বিশেষ করে শীর্ষ অংশে, এখনও ব্যাপক উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

এবারের ফ্লাইটের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইট সিমুলেটর কক্ষপথে স্থাপন এবং রকেটের হিট শিল্ডের কার্যকারিতা মূল্যায়ন। তবে পেলোড ডোর না খোলায় এসব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।

তবুও কিছু উল্লেখযোগ্য সফলতা রয়েছে। আগের দুবারের মতো এবার রকেট উৎক্ষেপণের সময় বিস্ফোরিত হয়নি। এছাড়া ব্যবহৃত বুস্টার পুনরায় ব্যবহারের উদ্যোগ ছিল এক বড় অগ্রগতি, যদিও অবতরণের সময় তিন ইঞ্জিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সেটি উপসাগরীয় এলাকায় ভেঙে পড়ে।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, তিন ইঞ্জিনের অবতরণ কৌশল পরীক্ষার অংশ ছিল এবং ভবিষ্যতে এর সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

এর আগে সপ্তম ও অষ্টম ফ্লাইটে রকেট আকাশেই বিস্ফোরিত হয়েছিল। তবে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ফ্লাইটে মহাকাশে গিয়ে সাফল্যের সঙ্গে পৃথিবীতে ফিরে আসার সিমুলেটেড ল্যান্ডিং করা হয়েছিল।

স্টারশিপ দুটি অংশ নিয়ে গঠিত—তরল গ্যাসচালিত ‘সুপার হেভি বুস্টার’ এবং তার ওপরে স্থাপিত ‘স্টারশিপ’ মহাকাশযান। এতে রয়েছে ৩৩টি ইঞ্জিন, যা নাসার আর্টেমিস রকেটের চেয়েও দ্বিগুণ শক্তিশালী।

সর্বশেষ মার্চ মাসের ফ্লাইটেও উৎক্ষেপণের ১০ মিনিট পর রকেট বিস্ফোরিত হয়েছিল, যার ফলে সাময়িকভাবে আকাশপথে বিমান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ঘটনার পর এফএএ তদন্ত শুরু করে এবং সম্প্রতি স্পেসএক্সকে নতুন সংস্করণের স্টারশিপ উৎক্ষেপণের অনুমতি দেয়।

এক ব্লগ পোস্টে স্পেসএক্স জানায়, “প্রতিবার উৎক্ষেপণ আমাদের শিখতে সহায়তা করে এবং সেই অনুযায়ী আমরা ডিজাইন পরিবর্তন করি। এর মাধ্যমে স্টারশিপকে সম্পূর্ণ ও দ্রুত পুনঃব্যবহারযোগ্য মহাকাশযানে পরিণত করার পথ তৈরি হবে।” তবে তারা এটাও মনে করিয়ে দেয়, “পরীক্ষা মানেই অনিশ্চয়তা।”