Dhaka 1:43 am, Tuesday, 22 September 2026
শিরোনাম:
বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক কেন্দ্র করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় ইতালি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জুলাই শহিদ মুগ্ধর পরিবারের সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৭ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল করা হয়েছে: রিজভী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুৎ: প্রতিমন্ত্রী ভারতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে: হাইকমিশনারকে মাহ্দী আমিন গুলশান-ধানমন্ডিসহ রাজধানীর লেক রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা-যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

হামে মারা যাওয়া ৮২ শতাংশ শিশুই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি

সময় পোস্ট: হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ পায়নি। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল তীব্র অপুষ্টিতে এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টিতে ভুগছিল। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাশিহাইয়ের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।

৩৫৪ শিশুকে নিয়ে গবেষণা:

গবেষণায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। তবে যারা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, তাদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ, হামে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের বড় একটি অংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত ছিল।

টিকাদানেও উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

গবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন। নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সি ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের বা ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের বা ৯২ শতাংশ এবং দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ৭৬ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে হাম আক্রান্ত হওয়ার সামগ্রিক হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, গবেষণায় অংশ নেওয়া সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ফলে দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হওয়ার তথ্যটি শুধু ওই হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আরও গবেষণার প্রয়োজন:

দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও ওই শিশুদের হাম শনাক্ত হওয়ার কারণ জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্য কোনো কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য কারণের কোনটি সংক্রমণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে, তা বর্তমান গবেষণায় নির্ধারণ করা হয়নি।

সভায় যারা ছিলেন:

গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাশিহাই পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক কেন্দ্র করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামে মারা যাওয়া ৮২ শতাংশ শিশুই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি

Update Time : 01:15:58 pm, Wednesday, 19 August 2026

সময় পোস্ট: হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ পায়নি। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল তীব্র অপুষ্টিতে এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টিতে ভুগছিল। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাশিহাইয়ের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।

৩৫৪ শিশুকে নিয়ে গবেষণা:

গবেষণায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। তবে যারা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, তাদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ, হামে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের বড় একটি অংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত ছিল।

টিকাদানেও উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

গবেষকেরা বয়স ও টিকা নেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন। নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সি ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের বা ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের বা ৯২ শতাংশ এবং দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ৭৬ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে হাম আক্রান্ত হওয়ার সামগ্রিক হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, গবেষণায় অংশ নেওয়া সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ফলে দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হওয়ার তথ্যটি শুধু ওই হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আরও গবেষণার প্রয়োজন:

দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও ওই শিশুদের হাম শনাক্ত হওয়ার কারণ জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্য কোনো কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য কারণের কোনটি সংক্রমণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে, তা বর্তমান গবেষণায় নির্ধারণ করা হয়নি।

সভায় যারা ছিলেন:

গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাশিহাই পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।