Dhaka 10:48 am, Friday, 16 October 2026
শিরোনাম:
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ জামায়াতের আগামীকাল শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, পাঁচ দিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক অপরাধ দমনে কঠোর সরকার, ক্লিন হার্টের মতো অভিযান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের কৌশলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের আস্থা: ড. তিতুমীর জবাবদিহিতা ও সুশাসনে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: ডেপুটি স্পিকার নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা, আওয়ামী লীগের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: তথ্য উপদেষ্টা

গুলশানের বাড়ি সরকারের সম্পত্তি, সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসে হস্তান্তরের নির্দেশ

সময় পোস্ট:রাজধানীর অভিজাত গুলশান-২ এলাকার একটি বাড়ি সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের দাবি:

রায়ে আদালত বলেন, গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িটি স্বাধীনতার পর থেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ছিল। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এর মালিকানা পরিবর্তন করা হয়নি, ফলে এটি এখনও সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।
দখল ও মালিকানা নিয়ে বিতর্ক:

দীর্ঘদিন ধরে আবদুস সালাম মুর্শেদী বাড়িটি ব্যবহার করে আসছেন বলে জানা যায়। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময় মালিকানা হস্তান্তরের চেষ্টা হলেও তা আইনগতভাবে বৈধ হয়নি। আদালত আরও উল্লেখ করেন, পরিত্যক্ত সম্পত্তি অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তন করা যায় না।
দুদকের অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন:

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে একটি রিটের পর আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালায়। প্রতিবেদনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করে।
তিন মাসের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ:

রায়ে সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দখল বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সচিবকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপিলের প্রস্তুতি:

অন্যদিকে সালাম মুর্শেদীর আইনজীবীরা জানান, তিনি ১৯৯৭ সালে বৈধভাবে সম্পত্তিটি ক্রয় করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ রায়ের ফলে গুলশানের বহুল আলোচিত এই বাড়ি ঘিরে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গুলশানের বাড়ি সরকারের সম্পত্তি, সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসে হস্তান্তরের নির্দেশ

Update Time : 11:57:17 am, Monday, 22 June 2026

সময় পোস্ট:রাজধানীর অভিজাত গুলশান-২ এলাকার একটি বাড়ি সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের দাবি:

রায়ে আদালত বলেন, গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িটি স্বাধীনতার পর থেকে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ছিল। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এর মালিকানা পরিবর্তন করা হয়নি, ফলে এটি এখনও সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।
দখল ও মালিকানা নিয়ে বিতর্ক:

দীর্ঘদিন ধরে আবদুস সালাম মুর্শেদী বাড়িটি ব্যবহার করে আসছেন বলে জানা যায়। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময় মালিকানা হস্তান্তরের চেষ্টা হলেও তা আইনগতভাবে বৈধ হয়নি। আদালত আরও উল্লেখ করেন, পরিত্যক্ত সম্পত্তি অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এর প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তন করা যায় না।
দুদকের অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন:

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে একটি রিটের পর আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালায়। প্রতিবেদনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করে।
তিন মাসের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ:

রায়ে সালাম মুর্শেদীকে তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দখল বুঝে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সচিবকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপিলের প্রস্তুতি:

অন্যদিকে সালাম মুর্শেদীর আইনজীবীরা জানান, তিনি ১৯৯৭ সালে বৈধভাবে সম্পত্তিটি ক্রয় করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ রায়ের ফলে গুলশানের বহুল আলোচিত এই বাড়ি ঘিরে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।